জামায়াতে তাবলীগ কি একটি বিদ’আতি কাজ?

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহ তা‘আলার জন্য, যিনি পরিপূর্ণ দ্বীন হিসাবে আমাদেরকে ইসলাম দান করেছেন, যে দ্বীনে মানুষের পক্ষ থেকে কোন সংযোজন বা বিয়োজনের প্রয়োজন হয় না। সালাত ও সালাম তাঁরই রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি, যিনি আল্লাহর দ্বীনের রিসালাতের দায়িত্ব পূর্ণাঙ্গভাবে আদায় করেছেন, কোথাও কোন কার্পণ্য করেননি। দ্বীন হিসাবে যা কিছু এসেছে তিনি তা উম্মতের কাছে পৌছে দিয়েছেন ও নিজের জীবনে বাস-বায়ন করে গেছেন। তার সাহাবায়ে কিরামের প্রতি আল্লাহর রাহমাত বর্ষিত হোক, যারা ছিলেন উম্মতে মুহাম্মাদীর আদর্শ ও আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ পালনে সকলের চেয়ে অগ্রগামী

লিখেছেনঃ মাওলানা মুজাহিদুল ইসলাম (মুয়াদ্দিব)
তাবলীগ একটি সুন্নতে হাসানা-কুরআন, হাদিসের প্রমান ডাউনলড করুন .docx ফাইল, কিলিক করুন এখানে।



আল্লাহ পাক মুনিনদের পরিচয় তুলে ধরেন, রসূল বিশ্বাস রাখেন ঐ সমস্ত বিষয় সম্পর্কে যা তাঁর পালনকর্তার পক্ষ থেকে তাঁর কাছে অবতীর্ণ হয়েছে এবং মুসলমানরাও সবাই বিশ্বাস রাখে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, তাঁর গ্রন্থসমুহের প্রতি এবং তাঁর পয়গম্বরগণের প্রতি। তারা বলে আমরা তাঁর পয়গম্বরদের মধ্যে কোন তারতম্য করিনা। তারা বলে, আমরা শুনেছি এবং কবুল করেছি। আমরা তোমার ক্ষমা চাই, হে আমাদের পালনকর্তা। তোমারই দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। (২.সুরা বাকারা: ২৮৫) আল্লাহ পাক আরো বলেন, তবে কি তোমরা গ্রন্থের কিয়দাংশ বিশ্বাস কর এবং কিয়দাংশ অবিশ্বাস কর? যারা এরূপ করে পার্থিব জীবনে দূর্গতি ছাড়া তাদের আর কোনই পথ নেই। কিয়ামতের দিন তাদের কঠোরতম শাস্তির দিকে পৌঁছে দেয়া হবে। আল্লাহ তোমাদের কাজখবর নন।-কর্ম সম্পর্কে বে-(২.সূরা বাকারা:৮৫)

প্রথমেই আমি দাওয়াহ সম্পর্কে আলোচনা করবো, আল্লাহ পাক দুনিয়াতে যুগে যুগে প্রতিটি জাতিতে নবী বা রাসূল পাঠিয়েছেন সেই কওমকে সর্তক করার উদ্দেশ্য, মূলত যখনোই কোনো কওমে অনাচার অধীক হারে বেড়ে গিয়েছে ঠিক তখনই আল্লাহ পাক তার দূতদের পাঠিয়েছেন উম্মতকে সর্তক করার জন্য।আল্লাহ পাক বলেন:

০১. আর অবশ্যই আমি নূহ কে তাঁর জাতির প্রতি প্রেরণ করেছি, (তিনি বললেন) নিশ্চয় আমি তোমাদের জন্য প্রকাশ্য সতর্ককারী। তোমরা আল্লাহ ব্যতীত কারো ইবাদত করবে না। নিশ্চয় আমি তোমাদের ব্যাপারে এক যন্ত্রণাদায়ক দিনের আযাবের ভয় করছি। (১১.সূরা হুদ:২৫-২৬)

০২. আমি প্রত্যেক উম্মতের মধ্যেই রাসূল প্রেরণ করেছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর এবং তাগুত থেকে দূরে থাকো। (১৬.সূরা আন নাহল:৩৬)

০৩. আর আদ জাতির প্রতি আমি তাদের ভাই হুদকে প্রেরণ করেছি; তিনি বলেন – হে আমার জাতি, আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ব্যতীত তোমাদের প্রকৃত কোন মাবুদ নেই, তোমরা সবাই মিথ্যা আরোপ করছ। (১১.সূরা হুদ:৫০)

তেমনি জাহিলিয়াতের সময় নবী(স:)-কে পাঠানো হয়েছে, এবং তার প্রতি রিসালাত দিয়েছেন বা কুরআন পাঠিয়েছেন তার উম্মতকে সতর্ক করার জন্য, কিন্তু নবী (স:)- হলেন শেষ নবী তথা তার পর আর নবী আসার সুযোগ আল্লাহ পাক বন্ধ করে দিয়েছন, এখন বলতে পারেন যে ঈসা (আ:)তো পৃথিবীতে? উত্তরটা অনেকেরই জানা যে তিনি এই নবীর উম্মত হিসেবেই আসবেন। বিদায় হজ্জে রাসুলুল্লাহ (সা.) আরাফাতে অবস্থানকালে প্রায় ১,২৪,০০০ মতান্তরে ১,৪৪,০০০ লোকের বিশাল জন সমুদ্রের উদ্দেশ্যে এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেন । রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, হে লোক সকল, আমার কথা শোনো, আমি জানি না, এবারের পর তোমাদের সাথে এই জায়গায় আর মিলিত হতে পারব কিনা।

আমার পর আর কোন নবী আসবে না। সুতরাং মনোযোগ দিয়ে শোন এবং আপন প্রতিপালকের দাসত্ব কর। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবে। রমজানের রোযা রাখবে। সানন্দ চিত্তে নিজের ধন-সম্পদের যাকাত দিবে। নিজ পরওয়ারদেগারের ঘরে হজ্জ করবে। আপন আমির ও দায়িত্বশীলদের আনুগত্য কর, যাতে তোমরা জান্নাতে যেতে পারো।

হে মানবমন্ডলী! একজন মুসলিম আরেকজন মুসলিমের দ্বীনি ভাই। মুসলিমগণ পরস্পর ভাই-ভাই। দ্বীনী ভাই সম্পর্কে আল্লাহ পাক বলেন, অবশ্য তারা যদি তওবা করে, নামায কায়েম করে আর যাকাত আদায় করে, তবে তারা তোমাদের দ্বীনী ভাই। আর আমি বিধানসমূহে জ্ঞানী লোকদের জন্যে সর্বস্তরে র্বণনা করে থাকি। (৯.সুরা তাওবা: ১১)। নবী কারীম (স:) বলেন, শোন, এখানে যারা উপস্থিত আছ তাদের কর্তব্য হবে, যারা আজ এখানে উপস্থিত নেই তাদের কাছে এই নির্দেশ ও বাণীগুলো ঠিকমত পৌঁছে দেয়া। অনুপস্থিত লোকদের মধ্য থেকে কেউ হয়তো এর মর্ম তোমাদের চেয়ে উত্তমরূপে বুঝবে ও সংরক্ষণ করবে।


অতএব এই দাওয়াতের দায়ীত্ব সকল মুসলমান জাতীর কেননা নবী (স:) সাহাবীদের এই বানীগুলো পৌছে দিয়েছেন। এবং তখন সাহাবীরা বিভিন্ন স্থানে বেড়িয়ে পড়েন, এবং বিশ্বব্যাপি আল্লাহর রিসালাত পৌছে দেয়ার জন্য ছড়িয়ে পড়েন, এজন্যই আমরা পৃথিবীর বাভিন্ন দেশে অনেক সাহাবীর করব দেখতে পাই।

ডা: জাকির নায়েকের একটি উক্তি না উল্লেখ করলেই নয়, তিনি বলেন “আল্লাহর প্রতি আহব্বন তা না হলে ধংশ”


আল্লাহ পাক পবিত্র কুরআনে বলেন:
০১. বলঃ হে আহলি কিতাব! এসো এমন একটি কথার দিকে, যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে একই ধরনের ৷ তা হচ্ছেঃ আমরা আল্লাহ ছাড়া কারোর বন্দেগী ও দাসত্ব করবো না৷ তাঁর সাথে কাউকে শরীক করবো না৷ আর আমাদের কেউ আল্লাহ ছাড়া আর কাউকেও নিজের রব হিসেবে গ্রহন করবে না ৷ যদি তারা এ দাওয়াত গ্রহণ করতে প্রস্তুত না হয়, তাহলে পরিষ্কার বলে দাওঃ ‘‘তোমরা সাক্ষী থাকো, আমরা অবশ্যই মুসলিম। (৩.সূরা আল-ইমরান:৬৪)

আর ডা: নায়েক বলেন এইটা হল সবচেয়ে কার্যকরি আয়াত যেটা দাওয়াতের ক্ষেত্র ব্যাবহার করা উচিত। কেননা আমাদের বিভিন্ন ধর্ম বা দলের মধ্যে বিভেদ থাকতে পারে কিন্তু সব ধর্মেই বা দলেই শ্রষ্ঠাকে এক বলে স্বীকার করে।

আল্লাহ পাক আরো বলেন:

০২.“হে রসূল! আপনি পৌছে দিন যা আপনার রব-এর পক্ষ থেকে আপনার প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে, যদি পৌছে না দেন, তাহলে আপনি আপনার রিসালাতের দায়িত্ব পালন করলেন না। (৫.সূরা আল-মায়িদাহ :৬৭)

০৩. আপনি আপনার রব-এর দিকে আহবান করুন আর আপনি কখনো মুশরিকদের অন্তর্ভূক্ত হবেন না। (২৮. সূরা আল-ক্বাসাস:৮৭)

০৪. তোমরাই হলে সর্বোত্তম উম্মত, মানবজাতির কল্যানের জন্যেই তোমাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে। তোমরা সৎকাজের নির্দেশ দান করবে ও অন্যায় কাজে বাধা দেবে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে। আর আহলে-কিতাবরা যদি ঈমান আনতো, তাহলে তা তাদের জন্য মঙ্গলকর হতো। তাদের মধ্যে কিছু তো রয়েছে ঈমানদার আর অধিকাংশই হলো পাপাচারী। (৩.সুরা ইমরান: ১১০)

০৫. অতঃপর সে ব্যক্তির চাইতে অধিক অনাচারী কে হবে, যে আল্লাহর আয়াত সমূহকে মিথ্যা বলে এবং গা বাঁচিয়ে চলে। অতি সত্ত্বর আমি তাদেরকে শাস্তি দেব। যারা আমার আয়াত সমূহ থেকে গা বাঁচিয়ে চলে-জঘন্য শাস্তি তাদের গা বাঁচানোর কারণে। (৬. সুরা আন’য়াম: ১৫৭)

০৭. যে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেয়, সৎকর্ম করে এবং বলে, আমি একজন আজ্ঞাবহ, তার কথা অপেক্ষা উত্তম কথা আর কার? (৪১.সুরা হা-মীম: ৩৩)

এসকল আয়াত দ্বারা আমাদের কাছে স্পস্ট যে আল্লাহ পাক এই দায়িত্ব আমাদের দিয়েছেন কেননা আল্লাহ পাক বলেন “আর তোমাদের মধ্যে এমন একটা দল থাকা উচিত যারা আহবান জানাবে সৎকর্মের প্রতি, নির্দেশ দেবে ভাল কাজের এবং বারণ করবে অন্যায় কাজ থেকে, আর তারাই হলো সফলকাম। (৩.সুরা ইমরান: ১০৪)”

আল্লাহ পাক আরো বলেন “তারা আল্লাহর প্রতি ও কিয়ামত দিবসের প্রতি ঈমান রাখে এবং কল্যাণকর বিষয়ের নির্দেশ দেয়; অকল্যাণ থেকে বারণ করে এবং সৎকাজের জন্য সাধ্যমত চেষ্টা করতে থাকে। আর এরাই হল সৎকর্মশীল। [সুরা ইমরান: ১১৪]”

জামায়াত কি:

এখন আসি জামায়াত শব্দটার দিকে, সাধারণত জামায়াত বলতে দল বা কোন গোস্ঠি বুঝায়। আর সেই দলের নির্দিষ্ট কর্মকান্ড থাকে। যদি বর্তমান অবস্থা ধরি তবে রাজনৈতিক ভিত্তি পরিচালনা করে কিছু আলাদা আলাদা দল। আবার কোনো দল প্রতিষ্ঠিত হতে হলে রেজিস্ট্রেশন করতে হয়। এমন কিছু ইসলামী দলের বা জামায়াতের দিকে লক্ষ্য করলে বুঝাযায়। যেমন: জামায়াতে ইসলামী এর প্রতিষ্ঠা কাল ২৬ শে আগষ্ট ১৯৪১ এবং উদ্দশ্য উপমহাদেশে ইসলামী শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। আরো রয়েছে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ/ইসলাম-১৯০৯, নেজামে ইসলাম পার্টি-১৯৪৫, হিজবুত তাহরীর-১৯৫৩, খেলাফত আন্দোলন-১৯৮১, ইসলামী ঐক্য আন্দোলন-১৯৮৪, ইসলামী (শাসনতন্ত্র) আন্দোলন বাংলাদেশ-১৯৮৭, খেলাফত মজলিস-১৯৮৯, ইসলামী ঐক্যজোট-১৯৯১, ইসলামিক ডেমোক্র্যাটিক পার্টি-২০০৮ প্রভৃতি। উক্ত ইসলামী দলগুলো ইসলাম প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে উপমহাদেশে ইসলামী শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। আবার একটা জামায়াতের নাম এবং রেজিস্ট্রশন ইংরেজদের থেকে দেয়া “আহলে হাদীস” নাম দিয়েছেন “রাণী ভিক্টোরিয়া”

এক্ষেত্র বুঝতে পারি যে জামায়াত বলতে দল বুঝায়, তবে রেজিস্ট্রেশন করা মূখ্য নয় কিন্তু নিদির্স্ট উদ্দেশ্য রয়েছে। এবার আসি তাবলীগের ব্যাপারে, আসলে আমি তাবলীগ জামায়াতকে দল হিসেবে বিবেচনা করি না, এটা সকল উম্মতের কাজ মানুষকে আল্লাহর পথে ডাকা। তবুও দল হিসেবে যদি দেখি তবে বলতে হবে এই দলটা মূলতো নবী(স:)-এর রিসালাতের সাক্ষ দেয় এবং আল্লাহর দ্বীনকে সমস্ত উম্মতের নিকটে পৌছানোই তাদের উদ্দেশ্য। তবে এই দলটি কোনো রেজিস্ট্রেশন ভুক্ত দল নয়, এমনকি কোনো রেজিস্টার খাতাও নেই। আবার অমুক ব্যক্তি আমির হয়েছিল বা অমুক ব্যক্তি আমির হবে সেটাও উল্লেখ নেই। অনেকেরই একটা ভুলধানা আছে যে মাওলানা ইলিয়াস (রহ)এর প্রতিষ্ঠাতা এবং এই জামায়াতের জন্ম হল ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে। আমি দ্বিতীয় কথার সাথে পুরোপুরি একমত এবং প্রথম কথাকে ব্যাখ্যা করতে চাই। তিনি মূলতো এই কিছু লোককে দলভুক্ত করেছিলেন এই জন্য যে রেসালাতের দায়িত্ব উম্মতে মুহাম্মাদির কাছে পৌছানো সবার দায়িত্ব। তিনি কিন্তু তাবলীগ প্রতিস্ঠা করেন নি, তিনি কিছুলোক কে জামাত বদ্ধ করেছিলেন। নবী(স:) বলেন “যে ব্যক্তি জামা'ত থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করবে তার মৃত্যু হবে জাহেলিয়তের মৃত্যু”। (মুসলিম)

এই দলটি বিদআতী দল কি না?:

হ্যা, দাওয়াত হল ফরজ আর এই নতুন ভাবে জমাতবদ্ধ হওয়াটা তখন ছিল নতুন সৃস্টি বা বিদআত, কারণ এই জামায়তটা নবী(স:) এর যুগে ছিল না। তবে জামাতবদ্ধতা নবী(স:) এর যুগেও ছিল। এক্ষেত্রে বলতে গেলে বর্তমানের সব জামায়াত তথা বিশেষ করে উপরে যেগুলো ইসলামী দলগুলোর কথা আলোচনা করা হয়েছে সবগুলোই বেদআত এমনকি আহলে হাদিসও যারা নিজেদের জান্নতি দল হিসেবে প্রমান করতে ব্যাস্ত। এবার আসি জামায়াতে তাবলীগ কেমন বিদআত? প্রশ্ন করি এর দ্বারা কি নিজের ফায়দা হওয়ার কথা মাওলানা ইলিয়াস (রহ) ভেবেছিলেন? সহজ উত্তর না। এর দ্বারা কি সওয়াব উদ্দেশ্য?? সহজ উত্তর না। এর দ্বারা কি দ্বীনের কোনো ক্ষতি হচ্ছে??? সহজ উত্তর না। বরং সারা বিশ্বে দাওয়াতের কাজ চলছে, বর্তমানে বিশ্বের অধিকাংশ দেশে এই দাওয়াতের কাজ চলছে এবং মানুষ দলে দলে ইসলাম গ্রহণ করছে। শুধু ভারত, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ নয় বরং বিশ্বের আরো অনেক দেশের মানুষ যেমন: চীন, আফ্রিকা, সৌদি আরব, লন্ডন, ফ্রান্সসহ অনেক দেশেই এই দাওয়াতি কাজ করছে, মানুষকে জাহান্নাম থেকে জান্নাতের দিকে নেয়ার পায়তারা করছে। তাহলে আমরা বুঝতে পালাম এই দলটি “সুন্নাতে হাসানাহ” পর্যায় পড়ে। যে সম্পর্কে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ من سن فى الإسلام سنة حسنة فله أجرها وأجر من عمل بها بعده من غير أن ينقص من أجورهم شيء، ومن سن في الإسلام سنة سيئة فله وزرها ووزر من عمل بها من بعده من غير أن ينقص من أوزارهم شيء. (رواه مسلم عن جرير بن عبد الله رضي الله عنهما) অর্থঃ যে ইসলামে কোন ভাল পদ্ধতি প্রচলন করল সে উহার সওয়াব পাবে এবং সেই পদ্ধতি অনুযায়ী যারা কাজ করবে তাদের সওয়াবও সে পাবে, তাতে তাদের সওয়াবে কোন কমতি হবে না। আর যে ব্যক্তি ইসলামে কোন খারাপ পদ্ধতি প্রবর্তন করবে সে উহার পাপ বহন করবে, এবং যারা সেই পদ্ধতি অনুসরণ করবে তাদের পাপও সে বহন করবে, তাতে তাদের পাপের কোন কমতি হবে না। (মুসলিম)একই ধরনের হাদিস ইবনে মাজাহ এর ২০৩, ২০৭ নং হাদিসেও পাবেন (ই:ফা:)


আর বিদআত সম্পর্কে আরো ভালো ভাবে জানতে হলে নিচের লিংকটায় গিয়ে মনোযোগ সহকারে পড়ুন। http://tinyurl.com/q6pk6lo
এই দলের জন্ম ইতাহাস:
হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সংস্কার ও দাওয়াতী জীবন পরবর্তী তার অনুসারীদের লেখা-লেখনী খানকাহী সংস্কার শিক্ষা ও দীক্ষার ধারাবাহিকতা নানাভাবে চলছেই। রাসূল (সা.)-এর সাহাবাগণ সারা বিশ্বে ছড়ায়ে পড়েছিলেন এবং দাওয়াত ও দীনি দীক্ষা অব্যাহত রেখেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতার ফলেই আজ আমরা মুসলমান। বৃটিশ পূর্ব ভারতের ইসলাম প্রচার ও সংস্কারের একটি ঐতিহ্যগত দিকছিল মাদ্রাসা শিক্ষা যা তত্কালীন মানুষের ঈমানী চেতনা। সামাজিক শিক্ষা ও সংস্কারের ক্ষেত্রে ব্যাপক ভূমিকা রাখত বৃটিশ ভারতে ইসলামী শিক্ষা ও বৃটিশ-ভারতীয় সংস্কার, কোথাও চলতো যুগপত্ ভাবে কোথাও বা মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়ে যেতো। এক পর্যায়ে বৃটিশ বিরোধীতায় মাদ্রাসা শিক্ষা মাদ্রাসা কেন্দ্রিক এবং কেবল মাত্র প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রিক হয়ে পড়ে। যার ফলে ঈমান আক্বিদার তা'লিম তাহযীব ও তমুদ্দন বিশেষ শ্রেণী পর্যন্ত আগ্রহী মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছিল।

বৃটিশ ভারতীয় যুগের শেষ প্রান্তে এসে মাওলানা ইলিয়াস (রহ)-এর জন্ম। হিন্দুস্থানের উত্তর পশ্চিম সীমান্তের একটি রাজ্যের বর্তমান নাম হরিয়ানা পূর্বের নাম পাঞ্জাব। হিন্দুস্থানের রাজধানী দিল্লীর দক্ষিণে হরিয়ানার একটি এলাকার নাম মেওয়াত। যার পরিধি দিল্লীর সীমান্ত থেকে রাজস্থান রাজ্যের জয়পুর জেলা পর্যন্ত বিস্তৃত । এই মেওয়াতে ১৩০৩ হিজরীতে এক হানাফী সূফি বুজুর্গের জন্ম হয়। তাঁর ঐতিহাসিক নাম ‘আখতার ইলিয়াস। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি শুধু ‘ইলিয়াস’নামে পরিচিতি পান। যিনি কান্দাতে উত্তর প্রদেশে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন এবং দিল্লিস্থ পশ্চিম নেজামুদ্দিনের বাঙলে মসজিদে সাধারণ অসচেতন মানুষের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে কাতর কণ্ঠে অতিসাধারণ ভাষায় ইসলামের দিকে মানুষকে আহ্বান জানাতেন। অনেকেই বলেন এই দলটির সৃস্টি দেওবান্দ মাদ্রাসা থেকে, মূলত এটা তাদের ভুল ধারনা। মাওলানা ইলিয়াস (রহ)১৩২৬ হিজরীতে দেওবন্দ মাদরাসার শাইখুল হাদীস মাহমুদূল হাসান সাহেবের কাছে বুখারী ও তিরমিযী গ্রন্থদয় শ্রবণ করেন। তবে তিনি শিক্ষাকতার দায়িত্ব পালন করেন নি। তিনি হাদিসের দর্সনেয়ার দু’বছর পর ১৩২৮ হিজরীতে সাহারানপুরের মাজাহিরুল উলুমের শিক্ষক হন। বিস্তারিত দেখুন: ( আবুল হাঁসান আলী রচিত ‘ হযরত মাওঃ ইলিয়াস আওর উনকী দ্বীন দাওয়াত’৪৮,৫৭,৬১, ও ১৯৩ পৄঃ গৃহীত , ইলিয়াসি তাবলীগ দ্বীন ইসলামের তাবলীগ পৄঃ ৯ )

মাওলানা ইলিয়াস (রহ)যেমন ঠিক করে দিতেন মুখের সালাম ও কালাম, শুধরে দিতেন নামায তেমনই শুধরে দিতেন সামাজিক ও পারিবারিক জীবন। একাজ তিনি নিজেও করতেন এবং দলবদ্ধভাবে একটি দল বা জামাত গঠন করে দূরবর্তী কখনও বা কাছের কোন মহল্লায়ও পাঠাতেন। তত্কালীন বিজ্ঞ ওলামায়ে কেরামগণ এই সাধারণ মানুষকে ধর্মের প্রতি আহ্বান ও সংস্কারের প্রতি কেউ কেউ গভীর শ্রদ্ধার সাথে দেখতেন। কেউবা এ পদ্ধতিকেও বিদআ'ত বলে সমালোচনাও করতেন। হযরত মাওলানা মঞ্জুর নোমানী (রঃ) তার "তাবলিগ জামাতের সম্প্রসারিত দৃষ্টি কোন"। "জামাআ'তে তাবলিগ উসআতি নাযারিয়াত" পুস্তিকায় উল্লেখ করেছেন যে, একদা তত্কালীন আলেমগণ বললেন-মাওলানা তৃষ্ণার্ত ব্যক্তিই কুয়া বা পুকুরে যায়। পুকুর বা কুয়া কখনও তৃষ্ণার্ত ব্যক্তির কাছে আসে না। আপনি যেভাবে সাধারণ মানুষের কাছে যাচ্ছেন তাতে কি কিছুটা ইলম বা দাওয়াত সস্তা ও তাচ্ছিল্যের শিকার হচ্ছে না? প্রতি উত্তরে হযরত মাওলানা ইলিয়াস (রঃ) বলেছিলেন, ভাই আমি ইসলামী দাওয়াতের ক্ষেত্রে নিজের ব্যক্তিত্ব ও আমার দাওয়াতী কার্যক্রমকে কুয়া বা পুকুর ভাবি না। বরং আকাশের বর্ষণমুখর মেঘ ভাবতে পছন্দ করি। যে কিনা বর্ষণকালে ভাবে না কোনটা গরীব এবং কোনটা আমীরের ক্ষেত, কোনটা সাধারণ আর কোনটা অসাধারণ। নবুয়াত পরবর্তী সময়ে সাধারণ মানুষের দীন শিক্ষা ও বিস্তার তা হলে কিভাবে হবে? আমি ইসলামের কল্যাণী শিক্ষা নামায ও দৈনন্দিন জীবন-যাপনের পবিত্র ও প্রাথমিক পদ্ধতিকে ধনী-গরীব, সাধারণ-অসাধারণ, কাছে-দূরে এমনকি দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে দিতে চাই। কেননা দীনি দাওয়াত মানবের প্রতি করুণা নয় বরং সৃষ্টি লগ্ন থেকেই দায়ীত্ব।

এতোক্ষনে আপনাদের মনে অনেক প্রশ্ন এসেছে, ইন-শা-আল্লাহ ধিরে ধিরে জবাব দেয়ার চেস্টা করবো।

তাহলে ৪০ দিন, ৪ মাস বা ১ বছর বিদআত?
এক্ষেত্রে আমি হাদিস আর হাদিস গ্রন্থের সাহায্য নেবো:

০১. স্বয়ং নবী (স:) কাররা, সিরিয়া ও ইয়ামেনের প্রদেশে বিভিন্ন এলাকায় এবং আবদে কায়স ও বনু হারিছ গোতের মুমিন-মুসলমানদের কাছেই দাওয়াত ও তালিমের জন্যই অনেক জামাত পাঠিয়েছেন।(বুখারী বাবে তাহরীয)
০২. কায়স ইবনে আসিমের (রা:) আমীরত্বে তামীমের বিভিন্ন মুসলিম গ্রত্রেই দাওয়াতের উদ্দেশ্যে ৯ম হিজরী/৬৩১ খ্রি: ১২ জনের এক জামায়াত বের হয়েছিল।(আল-ইসতিয়াব, খন্ড.২ পৃ: ৩০৫)
০৩. হযরত আযিম বিন ওমর (র:)থেকে বর্নিত হচ্ছে: নবী কারিম (স:)আমল ও কাররা গোত্রের মুসলমানদের কাছে ৬জনের একটি জামায়াত পাঠিয়েছিলেন।(বুখারী, ফাতহুল ক্বদীর, আযআলাতুল খাফা)

০৪. হযরত বারা (রা: বলেন, রাসূল (স:)ইয়ামেন প্রদেশে দাওয়াতের উদ্দেশ্যে হযরত খালিদ বিন ওয়ালীদ (রা:)কে পাঠান। আমিও তাদের সাথে ছিলাম। আমরা দীর্ঘ ৬ মাস যাবত সেখানে দাওয়াতের কাজ অনবরত করে চলেছি। এর পর হযরত আলী(রা:)কে আমীরেরর দায়ীত্ব দিয়ে খালিদ(রা:)কে ফীরে যেতে বললেন এবং তার সাথে যারা ফিরতে চায় তারা ফিরতে পারে আর যারা যেতে চায় তারা যেতে পারে। আমি হযরত আলী (রা:)এর সাথে আরো সময় বাড়িয়ে দিলাম।

আমরা আয়ামেনের হামাদান গোত্রের দ্বারে দ্বারে বারে বারে গমন করে করে সকলকেই হাজির করলাম। হযরত আলী(রা:) নবী (স:)এর পত্র পড়ে দাওয়াত দিলেন ও অনেকেই ইসলাম গ্রহণ করে নিলেন-ফিরে এলেন ৪ মাস পর, উভয়ের আমীরত্বে প্রায় ১ বছের হচ্ছে। (হয়াতুস সাহাবা-খন্গ ১ম, পৃষ্ঠা ১৪০, বুখারী খন্ড-২)

প্রাচীন আরবী ইতিহাসে আরো পাবেন:

০১.ইবনে সায়াদ রচিত তাবাক্বাত গ্রন্থের ২য় খন্ডের ৫১-৫৪ পৃষ্ঠায় ৭দিন ও ১৫ দিনের জামায়াতের কথা উল্লেখ আছে। ইবনে সায়াদের ২য় খন্ডের ৩৫-৩৬ পৃষ্ঠায় ৬০ দিনের জামায়াতের কথা পাবেন।

০২. ইসনে ইসহাক নামক ইতাহসের তা উদ্বৃত্ব হয়েছে। আমীর নবী (স:)৩য় হিজরী জামাদিউল আউয়াল মাসে তথা ৬২৪ খৃ: অক্টোবর/নভেম্বর মাসে- এ জামায়াত রওনা দেয়। উদ্দেশ্য আলফুর থেকে বাহরাইন পর্যন্ত।

০৩. তাবাক্বাত গ্রন্থে ১ম খন্ড ৩৩৩-৩৪ পৃ: আছে, আমর বিন মুররাহ (রা:), ৬২৭ খৃ: মদীনার পশ্চিম উপকূলীও অঞ্চল জাহায়নাহ এলাকায় দাওয়াত দিয়ে ২১ জনের এর বেশি লোককে মদিনায় নিয়ে আসেন।।।

৪. তাবারী/ আখবারূর রাসূল ওয়াল মুলূক গ্রন্থকার ইমাম আবু জাফর রাহ. ৬০দিনের জামাতের কথা পরিস্কারভাবে উল্লেখ করেছেন।

৫. ইবনে ইসহাক নামক ইতিহাসেও তা উদ্ধৃত হয়েছে। আমীরঃ স্বয়ং রাসূলু্ল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। সময়কালঃ ৩য় হিজরীর জুমাদাল ঊলা মুতাবিক ৬২৪খৃষ্টাব্দের অক্টোবর/নভেম্বর মাসে এ জামাত রওয়ানা হয়। রোখঃ আলফুর থেকে বাহরাইন পর্যন্ত এ বিস্তীর্ণ এলাকা তাবলীগের কাজ করতে করতে এগিয়ে যেতেন, ঠিক এ যুগের সালের বা পায়দল জামাতের মতই। ৬০ দিনের ব্যপারে সকল ইতিহাসবেত্তাই সমমত ব্যক্ত করেছেন। কিন্তু মতভেদ স্বয়ং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপস্থিতি নিয়ে। কেউ বলেন ৬০ দিন, কেউ বলেন ১০দিন।

যেমন, তাবারী ও ইবনে ইসহাকের মতে রাসূলুল্লাহ উক্ত জামাতে ৬০ দিন ছিলেন। আর বালজুরী, ওয়াকেদী ও ইবনে সা'আদের মতে ১০দিন ছিলেন। উভয় পক্ষেই সহীহ হাদীসের দলীল পর্যাপ্ত দলীল আছে। অতএব, এখান থেকে ৬০ দিনের প্রমাণ যেমন মিললো, ঠিক তদ্রুপ ১০ দিনেরও মজবুত দলীল পাওয়া গেলো।

মোট কথা, আল্লাহর রাসূল যে ৬০ দিনের জামাতে বের হয়েছিলেন, এ বিষয়ে সকল ইতিহাসবীদ একমত পোষণ করেছেন।

৬. তাবাকাত গ্রন্থের ১ম খণ্ডের ৩৩৩ ও ৩৩৪ পৃষ্ঠায় আছে, আমর বিন মুররাহ রাযিয়াল্লাহু আনহু ৬ষ্ঠ হিজরী মুতাবিক ৬২৭খৃষ্টাব্দে মদীনার পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চল জুহায়না এলাকায় তাবলীগ করে ২১ এর উর্দ্ধে ব্যক্তিকে তাশকীল করে মদীনায় এনেছেন।

৭. ক) তাবারী কিতাবের ৩য় খণ্ডের ৩৪ পৃষ্ঠায় আছে, হযরত আবু কাতাদাহ রাযিয়াল্লাহু আনহু ৮ম হিজরীর শা'বান মাস মুতাবিক ৬২৯ খৃষ্টাব্দের ডিসেম্বরে ১৫ জনের এক জামাত নিয়ে খাজিরাহ আলগাবাহ এলাকায় তাবলীগ করে গাতফান বংশের অধিকাংশ জনগণের এক বিরাট জামাত তাশকীল করে মদীনায় নিয়ে আসেন। এই বিষয়ে আরো সমভাষ্য দিচ্ছেন, ইবনে হিশাম ২য় খণ্ডের ৬২৯ পৃষ্ঠায় , ইবনে সা'আদ ১৩২ পৃষ্ঠায়।


খ) একই কিতাবের ৩য় খণ্ডের ১২৬-১২৮ পৃষ্ঠায় আরো বর্ণিত আছেঃ হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালিদ রাযিয়াল্লাহু আনহু ১০ম হিজরীর রবিউল আউয়াল মাস মুতাবিক ৬৩১খৃষ্টাব্দের জুন মাসে ৪০০ জনের বিরাট জামাতসহ নাজরান এলাকায় তাবলীগ করে বনু আ.মাদান-বনু হারিস বংশের বহু মানুষকে নগদ উসূল করে আনেন। এ সফর ছিলো ৬মাসব্যাপী।

তাবারীতে একথাও লখো আছে যে, এ জামাত যুদ্ধের জন্য প্রেরিত হয়নি, বরং শুধুমাত্র তাবলীগের জন্যই প্রেরিত হয়েছিলো।

গ) তাবারীতে আরো লেখা আছে, হযরত কা'ব রাযিয়াল্লাহু আনহু ৮ম হিজরীর রবিউল আউয়াল মুতাবিক ৬২৯খৃষ্টাব্দের জুলাই মাসে ১৫ জনের জামাত নিয়ে 'যাতুল আতলাহ নামক স্থানে তাবলীগ করে কুযাযাহ গোত্র থেকে দু'জামাত প্রায় তাশকীল করেন।

ঘ) হযরত আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু ইয়ামানে ৮ জনের জামাত নিয়ে ১০ম হিজরী মুতাবিক ৬৩১খৃষ্টাব্দের ডিসেম্বরে ৪মাসের জন্য প্রেরিত হন। আরো বিস্তারিত দেখুন, তাবারীর ৩য় খণ্ডে, ১৩১-১৩২পৃষ্ঠায় ও বুখারীর ৬২৩ পৃষ্ঠায়।


আশাকরি বুঝতে পেরেছেন। সারাংশ হলো, সময় কোন মূখ্য বিষয় নয়, আসল বিষয় হলো দায়িত্ববোধোদয়। এ হৃদয়-আকাশে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শিখিয়ে দেওয়া দায়িত্ববোধ কতটুকু উদয় হয়েছে? তাঁর ফিকিরে ফিকিরবান হতে পেরেছি কি? আমি ডাক্তার হয়েছি, ব্যবসায়ী হয়েছি, আলেম হয়েছি, সবই হয়েছি। কিন্তু সত্বিকারের মুসলমান কি হতে পেরেছি? হতে কি পেরেছি, রাসূলুল্লাহর সুযোগ্য উম্মত?

তাহলে ৪০ দিন, ৪ মাস বা ১ বছর নিদৃষ্ট করা বিদআত:

প্রশ্ন করি যদি আপনি স্কুলে পড়েন তবে আপনাকে নির্দিস্ট সময় স্কুলে অবস্থান করতে হয়, কিন্তু আপনি যদি নাও চান অবস্থান করতে তবে আপনাকে অনুমতি সাপেক্ষে ছুটি দেয়া হয়, আবার আপনি যদি নিয়োমিত একই ভাবে ছুটি নিতে থাকেন তবে দেখবেন একসময় এই ছুটি নেয়া আপনার স্কুল ছাড়ার জন্য যথেস্ট হবে। যদি আপনি সম্পূর্ণ সময় স্কুলে থাকেন তথা ৮ ঘন্টা তবে আপনি অনেক সুফল পাবেন যেমনটা আপনি ২ বা ৪ ঘন্টায় পেতেন তার চেয়ে। অন্যদিকে কওমি মাদ্রাসার কথা যদি চিন্তা করেন তবে দেখবেন যে তারা সারাক্ষন পড়াশুনায় ব্যাস্ত থাকেন কারণ এর মাধ্যমে সুফল অনেক বেশি পাওয়া যায় যারা শুধু নিদির্স্ট কিছু সময় থাকে তাদের চেয়ে।

অনেকে সময়টা নিদির্স্ট হওয়াকে বিদআত বলে থাকেন, আমার প্রশ্ন যে জিনিষটা নিদির্স্ট বা অপরিবর্তনীয় সেই জিনিষটাকে কি পরিবর্তন করা যায়। যেমন: কোনো এক দরের পন্য কি আপনি দরা-দরি করে কিনতে পারবেন? উত্তর সহজ, না। তেমনি তাবলীগের ৩ দিন বা ৪০ দিন বা ৪ মাস বা এক বছর থাকাকে নিদৃস্ট করা হয়নি বরং একটা সময়কে বুঝানো হয়েছে। আপনি ইচ্ছা করলে ১ ঘন্টাও ব্যায় করতে পারেন দাওয়াত দেয়ার ক্ষেত্রে বা দ্বীন শিক্ষা করার ক্ষেত্রে। কিন্তু ঐ নিদির্স্ট সময়টা অবস্থান করলে যত উপকার হত আপনার আর উম্মতের ততটা তার হবে না যে কিনা অল্প সময় দাওয়াহ দেয় বা দ্বীন শিক্ষা করে।

এখন আবার প্রশ্ন করি তাহলে কি এইটা বিদআত? উত্তর না, এবং এর দ্বারা সোয়াব উদ্দেশ্য নয় বা এটা দ্বীনের কোনো ক্ষতি করছে না। বা আমলের কোনো ক্ষতি করছে না। তাহলে এটাও সুন্নতে হাসানা

তাহলে ঐ সময়টা স্ত্রী-সন্তান রেখে বাইরে থাকা বেদআত:
অনেকেই বলে থাকেন তাবলীগ ওয়ালারা স্ত্রী-সন্তান রেখে বৈরাগ্যতে ডুবে থাকে। আবার অনেকেই বলে যে এতো দিন স্ত্রীর ছাড়া থাকলে সে তালাক প্রপ্ত হয়। আমি তাদের একটা প্রশ্ন করি, আপনি যদি চাকরীর জন্য বা উপর্যনে জন্য দেশ ত্যাগ করে ২ বা ৫ বছর থাকতে পারেন তবে যারা উম্মতের জন্য চিন্তা করছে তারা কেন পারবে না??? একটু নিচের হাদিসের আর কুরআনের উ্দৃত্তি গুলো মনোযোগ সহোকারে দেখবেন।
১. ওমর (রাঃ) তাঁর মেয়ে হাফসা কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, এক জন নারী তার স্বামী ছাড়া কতদিন থাকতে পারে? তিনি উত্তর দিয়ে ছিলেন ছয় মাস বা চার মাস। তারপর থেকে তিনি কোন সৈনিককে ছয় মাসের বেশি বাহিরে থাকতে দিতেন না (মারেফাতুস সুনান ওয়াল আছার লিল বায়হাক্বী ১৪/২৪৯)

০২. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের কেউই ঈমানদার হবে না যতক্ষণ আমি তার কাছে তার পিতা-মাতা, সন্তান ও সকল মানুষ হতে প্রিয় না হই”। (সহীহ বুখারী, হাদীস নং১৫, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৭৮)

০৩. হযরত ওমর (রাঃ) একবার বললেন, ইয়া রাসূলূল্লাহ ! আপনি আমার নিকট আমার জীবন ব্যতীত অন্য সমস্ত বস্তু হতে অধিক প্রিয় । হুযুর (সাঃ) বললেন, কোন ব্যাক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবেনা যতক্ষণ পর্যন্ত আমার মহব্বত তার নিকট তার জীবনের চাইতেও বেশী না হইবে । হযরত উমর (রাঃ) বললেন, ইয়া রাসূলূল্লাহ ! এখন আপনি আমার নিকট আমার জীবনের চাইতেও বেশী প্রিয় ।(বুখারী)

০৪. আল্লাহ পাক বলেন “হে ঈমানদারগণ, আল্লাহ ও তাঁর রসূলের নির্দেশ মান্য কর, যখন তোমাদের সে কাজের প্রতি আহবান করা হয়, যাতে রয়েছে তোমাদের জীবন।[সুরা আনফাল: ২৪]”

০৫. মুমিনগণ, তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে সেই অগ্নি থেকে রক্ষা কর, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও প্রস্তর, যাতে নিয়োজিত আছে পাষাণ হৃদয়, কঠোরস্বভাব ফেরেশতাগণ। [সুরা তাহরীম: ৬]

ভাই এবার চিন্তা করেন আপনি কি করবেন? জান কবচের ফিরিস্তা যখন আসবে তখন কে আসবে আপনাকে বাচাতে, কে রক্ষা করবে আপনাকে সেই কষ্ট থেকে? কে আপনাকে কবরের আজাব থেকে রক্ষা করবে? হাশরের দিকে না হয় এখন গেলাম না, কবর থেকে কে বাচাবে? একটু চিন্তা করে দেখুন দুনিয়া অর্জনের খাতিরে আপনি সারা দুনিয়া ভ্রমন করতে পারছেন কিন্তু আখেরাতের জন্য আপনাকে বাধা দিচ্ছে। মাঝেমাঝে আবার অনেকে বলে যে আমার এক বন্ধুর স্ত্রীর খবর আমার কাছ থেকে নেয়, কারণ সে তাবলীগের কাজে গিয়েছে। আমি তাদের বলি, আপনি যখন বাইরে যান তখন কি কারো কাছে আপনার পরিবারের খবর নেন না? জানি উত্তরগুলো শোনার পরও আপনাদের মনে অনেক প্রশ্ন এবং খোবের সৃস্টি হয়েছে। যদি নিরপেক্ষ হয়ে পড়েন তবে হয়তো আর তাবলীগওয়ালাদের গালী দিবেন না, শ্রদ্ধা করবেন।

ভাই তাহলে তাবলীগ জামাতের মসজিদে থাকা বা ঘুমানো বেদআত:

ভাই দয়া করে নিচের হাদিসগুলোর দিকে খেয়াল করুন: ইমাম বুখারী রহ. (মৃ.২৫৬ হি.) সহীহ বুখারীতে একটি অধ্যায় রেখেছেন “باب نَوْمِ الْمَرْأَةِ فِي الْمَسْجِدِ ‘মহিলাদের জন্য মসজিদে ঘুমানো জায়েয’। এ অধ্যায়ে দলীল হিসেবে বর্ণনা করেন:-

عَنْ عَائِشَةَ "أَنَّ وَلِيدَةً كَانَتْ سَوْدَاءَ لِحَيٍّ مِنْ ...فَجَاءَتْ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَسْلَمَتْ قَالَتْ عَائِشَةُ فَكَانَ لَهَا خِبَاءٌ فِي الْمَسْجِدِ أَوْ حِفْشٌ قَالَتْ فَكَانَتْ تَأْتِينِي فَتَحَدَّثُ عِنْدِي قَالَتْ فَلاَ تَجْلِسُ عِنْدِي مَجْلِسًا إِلاَّ قَالَتْ: وَيَوْمَ الْوِشَاحِ مِنْ تعَاجِيبِ رَبِّنَا ... أَلاَ إِنَّهُ مِنْ بَلْدَةِ الْكُفْرِ أَنْجَانِي

একটি বাদীর ঘটনা। ঘটনাটি বর্ণনা করেছেন হযরত আয়শা রা.। তিনি বলেন মহিলাটি ইসলাম গ্রহণ করলে তাঁর থাকার জন্য মসজিদে একটি তাবু খাটানো হল। (সহীহ বুখারী হা. নং ৪৪৯, ই:ফা:)

এ হাদীসে ব্যাখ্যায় ‘হানাফী’ ফকীহ ও মুহাদ্দিস আল্লামা আইনী রহ. বলেন: قال ابن بطال فيه أن من لم يكن له مسكن ولا مكان مبيت يباح له المبيت في المسجد سواء كان رجلا أو امرأة ইবনে বত্তাল রহ. বলেছেন, এ হাদীস থেকে বুঝা যায় রাত যাপনের স্থান নেই এমন যে কোন নারী-পুরুষের জন্য মসজিদে থাকা জয়েয। (উমদাতুল কারী বুখারী শরীফের ব্যাখ্যা গ্রন্থ)

অতঃপর ইমাম বুখারী আরেকটি অধ্যায়ের শিরোনাম দিয়েছেন بَاب نَوْمِ الرِّجَالِ فِي الْمَسْجِدِ অর্থাৎ ‘পুরুষদের জন্য মসজিদে ঘুমানো জায়েয’। এ অধ্যায়ে দলিল হিসেবে তিনটি হাদীস বর্ণনা করেছেন।

১. সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. নিজের সম্পর্কে বলেন

عَبْدُ اللَّهِ، " أَنَّهُ كَانَ يَنَامُ وَهُوَ شَابٌّ أَعْزَبُ لَا أَهْلَ لَهُ فِي مَسْجِدِ النَّبِيِّ . ولفظ ابن ابى شيبة-كنا ونحن شباب نبيت في عهد رسول الله صلى الله عليه و سلم في المسجد ونقيل. وهكذا لفظ الترمذى.

তিনি ছিলেন অবিবাহিত যুবক। স্ত্রী-পুত্র কেউ ছিল না। তখন তিনি মসজিদে নববীতেই (রাতে ও দিনে) ঘুমাতেন। (সহীহ বুখারী,) জামে তিরমিযী (তিরমিযী শরীফ) ও ইবনে আবীশাইবার বর্ণনায় বক্তব্যটি তুলে ধরা হয়েছে এভাবে ‘আমারা একদল যুবক রাতে ও দিনে মসজিদে শয়ন করতাম’। এ হাদীসের ব্যাখ্যায় হাফেজ আইনী রহ. (মৃ.৮৫৫ হি.) বলেন وهو جواز النوم في المسجد لغير الغريب ... এতে স্থানীয় লোকদের জন্যও (যারা মুসাফির নয়) মসজিদে ঘুমানো জায়েয বলে প্রমাণিত হয়। (উমদাতুল কারী)

হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী রহ. (মৃ.৮৫২ হি.) বলেন قوله: "باب نوم الرجال في المسجد" أي جواز ذلك، وهو قول الجمهور، অর্থাৎ পুরুষদের জন্য মসজিদে ঘুমানো জায়েয। এটাই অধিকাংশের মত। (ফাতহুল বারী)

২. হযরত সাহল ইবনে সা‘দ রা. বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত ফাতেমার ঘরে এসে আলীকে (রা.) পাননি। জিজ্ঞেস করলেন আলী কোথায়? ফাতেমা বললেন, আমাদের দু’জনে মধ্যে কিছু রাগারাগি হয়েছে। ফলে তিনি রাগ করে এখানে বাইরে চলে গেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজনকে বললেন তাকে একটু খুঁজে দেখ কোথায়। লোকটি এসে জানাল, আলী মসজিদে ঘুমিয়ে আছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে দেখলেন আলী শুয়ে আছেন। শরীর এক পাশ থেকে চাদর পড়ে গেছে। আর গায়ে ধুলো-বালি লেগে রয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর গায়ের বালি ঝেড়ে দিচ্ছেন আর বলছেন ‘আবু তোরাব উঠ উঠ। (সহীহ বুখারী)

এ হাদীসের ব্যাখ্যায় আল্লামা আইনী রহ. (মৃ.৮৫৫ হি.) বলেন

فيه إباحة النوم في المسجد لغير الفقراء ولغير الغريب وكذا القيلولة في المسجد فإن عليا لم يقل عند فاطمة رضي الله تعالى عنها ونام في المسجد وفي كتاب المساجد لأبي نعيم من حديث بشر بن جبلة عن أبي الحسن عن عمرو بن دينار عن نافع بن جبير بن مطعم عن أبيه يرفعه لا تمنعوا القائلة في المسجد مقيما ولا ضيفا.

এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় ঘর-বাড়িহীন দরিদ্র ও ভীনদেশী মুসাফির ছাড়া স্থানীয়দের জন্যও মসজিদে ঘুমানো জায়েয। অনুরূপ মসজিদে কাইলূলা (দিবসকালীন বিশ্রাম) করাও জায়েয। কারণ (জায়েয বলেই) হযরত আলী (রা.) ফাতেমা রা. এর ঘরে বিশ্রাম না করে মসজিদে গিয়ে ঘুমালেন। ইমাম আবু নু‘আইম ইসফাহানী রহ. ‘কিতাবুল মাসাজিদে’হযরত জুবাইর ইবনে মুতইম (রা) থেকে বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন মেহমান বা স্থানীয় যে কেউ মসজিদে বিশ্রাম নিতে আসলে তাকে বাধা দিও না। (উমদাতুল কারী)

৩. তৃতীয় বর্ণনায় আহলে ছুফ্ফার বিবরণ তুলে ধরেছেন। তাঁরা মসজিদে নববীতেই রাত দিন থাকতেন। এ অধ্যায়ে উল্লিখিত হাদীসের ব্যাখ্যায় হাফেজ ইবনে রজব রহ. (মৃ.৭৯৫ হি.) বলেন وليس المقصود من ذلك في هذا الباب إلا نومهم في المسجد ولا شك في أن أهل الصفة كانوا ينامون في المسجد ، لم يكن لهم مأوى بالليل والنهار غير الصفة ، এখানে এ হাদীস বর্ণনা করার উদ্দেশ্য আহলে ছুফ্ফার মসজিদে ঘুমানোর কথা তুলে ধরা। সন্দেহ নেই আহলে ছুফ্ফা মসজিদেই ঘুমাতেন। রাত দিনে তাদের ঘুমানোর আর কোন স্থান ছিল না।

ইবনে সা‘দ রহ. (মৃ.২৩০ হি.) বর্ণনা করেন عن يزيد بن عبد الله بن قسيط ، قال : كان أهل الصفة ناسا فقراء من أصحاب رسول الله لا منازل لهم ، فكانوا ينامون على عهد رسول الله في المسجد ويظلون فيه ، ما لهم مأوى غيره ،..ذكره ابن رجب فى فتح البارى له আহ্লে ছুফ্ফা ছিলেন রাসূলের একদল দরিদ্র সাহাবী। তাদের কোন বাড়ি ঘর ছিল না। তাঁরা মসজিদেই ঘুমাতেন, মসজিদেই থাকতেন। এছাড়া তাদের আর কোন আশ্রয় ছিল না। (তাবাকাতুল কুবরা ইবনে সাদ, ফাতহুল বারী ইবনে রাজব)

এ সংক্রান্ত আরো কয়েকটি হাদীস ৪. সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে যায়েদ আনসারী রা. বলেন


" أَنَّهُ رَأَى رَسُولَ اللَّهِ مُسْتَلْقِيًا فِي الْمَسْجِدِ وَاضِعًا إِحْدَى رِجْلَيْهِ عَلَى الْأُخْرَى আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি, মসজিদে এক পা অপর পায়ের উপর রেখে চিৎ হয়ে শুয়ে আছেন। (সহীহ বুখারী) ৫. হযরত আসমা বিনতে ইয়াযীদ বলেন,

أَنَّ أَبَا ذَرٍّ الْغِفَارِيَّ كَانَ يَخْدُمُ النَّبِيَّ صلى الله عليه و سلم فَإِذَا فَرَغَ مِنْ خِدْمَتِهِ، آوَى إِلَى الْمَسْجِدِ، فَكَانَ هُوَ بَيْتُهُ، يَضْطَجِعُ فِيهِ، فَدَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه و سلم الْمَسْجِدَ لَيْلَةً، فَوَجَدَ أَبَا ذَرٍّ نَائِمًا مُنْجَدِلًا فِي الْمَسْجِدِ، فَنَكَتَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه و سلم بِرِجْلِهِ حَتَّى اسْتَوَى جَالِسًا، فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه و سلم :" أَلَا أَرَاكَ نَائِمًا؟ "، قَالَ أَبُو ذَرٍّ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَأَيْنَ أَنَامُ، هَلْ لِي مِنْ بَيْتٍ غَيْرُهُ؟،. قال فى المجمع: رواه أحمد والطبراني وروى بعضه في الكبير وفيه شهر بن حوشب وفيه كلام وقد وثق

হযরত আবুযর রা. রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমত করতেন। ফারেগ হলেই মসজিদে চলে যেতেন। মসজিদই ছিল তাঁর ঘর। এখানেই ঘুমাতেন। একদিন রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে দেখলেন আবুজর মসজিদে শুয়ে আছেন। তিনি তাকে পা দিয়ে স্পর্শ করলেন। আবুযর রা. উঠে বসলেন। রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন তুমি এখানে ঘুমিয়ে কেন? আবুযর বললেন হে আল্লাহর রাসূল! কোথায় ঘুমাব আর ?! এ ছাড়াকি আমার আর কোন ঘর আছে? (মুসনাদে আহমদ হা.২৬৯২৮ মাজমাউযযাওয়াইদ হা. ২০২৩)

অন্য বর্ণনায় রয়েছে

أنه كان يخدم النبي صلى الله عليه و سلم فإذا فرغ من خدمته أتى المسجد فاضطجع فيه.رواه الطبراني في الأوسط وفيه شهر وفيه كلام وقد وثق

তিনি রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমত করতেন। যখনই অবসর হতেন, মসজিদে এসে শুয়ে আরাম করতেন। (আলমুজামুল আওসাত, তাবারানী। মাজমাউযযাওয়াইদ হা. ২০২৪)

মোট কথা হযরত আবুযর রা. এর থাকার মত কোন ঘরই ছিল না। তিনি সব সময়ই মসজিদে থাকতেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন দিনই তাঁকে মসজিদে ঘুমাতে নিষেধ করেননি।

বুখারী শরীফের এক বর্ণনায় রয়েছে, সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে যায়েদ আনসারী রা. বলেন

" أَنَّهُ رَأَى رَسُولَ اللَّهِ مُسْتَلْقِيًا فِي الْمَسْجِدِ وَاضِعًا إِحْدَى رِجْلَيْهِ عَلَى الْأُخْرَى " وَعَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، قَالَ: كَانَ عُمَرُ وَعُثْمَانُ يَفْعَلَانِ ذَلِكَ.

আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি, মসজিদে এক পা অপর পায়ের উপর রেখে চিৎ হয়ে শুয়ে আছেন। হযরত সায়ীদ ইবনুল মুসায়্যিব বলেন হযরত উমর ও উসমান রা. ও এভাবে মসজিদে ঘুমাতেন। (সহীহ বুখারী)


হযরত হাসান বছরী (মৃত. ১১০ হি.) রা. বলেন

قال رأيت عثمان بن عفان نائما فيه ليس حوله أحد وهو أمير المؤمنين قال وقد نام في المسجد جماعة من السلف ...


আমি হযরত উসমান (রা)কে দেখেছি মসজিদে ঘুমিয়ে আছেন। তাঁর পাশে কেউ নেই। অথচ তখন তিনি আমীরুল মুমিনীন। হযরত হাসান আরো বলেন সাহাবা তাবেয়ীদের অনেকেই মসজিদে ঘুমাতেন। (তাবারী, উমদাতুল কারী)



এ বিষয়ে মহান তাবেয়ীদের কয়েকজনের মতামত তুলে ধরছি



۱. عن الحارث بن عبد الرحمن قال سألت سليمان بن يسار عن النوم في المسجد فقال كيف تسألون عن هذا وقد كان أهل الصفة ينامون فيه ويصلون فيه -হযরত হারেস ইবনে আব্দুর রহমান বলেন, হযরত সুলায়মান ইবনে ইয়াসারকে জিজ্ঞেস করলাম মসজিদে ঘুমানোর বিধান কী? তিনি উত্তরে বললেন তোমরা কেন এবিষয়ে প্রশ্ন কর? আহলে ছুফ্ফাতো মসজিদেই থাকতেন, মসজিদেই নামাজ পড়তেন। অর্থাৎ মসজিদে ঘুমানো জায়েয। আহলে ছুফ্ফার মসজিদে ঘুমানোটাই এর দলীল। (মুসান্নাফে ইবনে আবীশাইবা হা. ৪৯১১)

٢. عن يونس قال رأيت بن سيرين ينام في المسجد -হযরত ইউনুস রহ. বলেন আমি তাবেয়ী ইবনে সীরীনকে মসজিদে ঘুমাতে দেখেছি। (মুসান্নাফে ইবনে আবীশাইবা )


٣. عن الحسن قال كان له مسجد يصلي فيه وينام فيه -বিখ্যাত তাবেয়ী হযরত হাসান বছরী রহ. এর একটি মসজিদ ছিল। তিনি তাতে নামাজও পড়তেন, ঘুমাতেনও। (মুসান্নাফে ইবনে আবীশাইবা হা. ৪৯১৩

٤. عن بن جريج قال قلت لعطاء أتكره النوم في المسجد قال بل أحبه -ইবনে জুরাইজ রহ. বলেন আমি হযরত আতা রা. কে জিজ্ঞেস করলাম মসজিদে ঘুমানোকে কি আপনি অপসন্দ করেন? বললেন না, বরং মসজিদে ঘুমানোকে আমি পসন্দ করি। (মুসান্নাফে ইবনে আবীশাইবা হা. ৪৯১৭)

٥. سعيد بن المسيب إنه سئل عن النوم في المسجد فقال أين كان أهل الصفة يعني ينامون فيه -হযরত সায়ীদ ইবনুল মুসায়্যিবকে জিজ্ঞেস করা হল মসজিদে ঘুমানো জায়েয আছে কী? তিনি উত্তরে বললেন আহলে ছুফ্ফা কোথায় থাকতেন তাহলে? অর্থাৎ তারা মসজিদেই ঘুমাতেন। (সুতরাং মসজিদে ঘুমানো জায়েয এবং এটি সুস্পষ্ট) (মুসান্নাফে ইবনে আবীশাইবা হা. ৪৯২২)

٦. عن بن أبي نجيح قال نمت في المسجد الحرام فاحتلمت فيه فسألت سعيد بن جبير فقال اذهب واغتسل يعني ولم ينهه -হযরত ইবনে আবী নাজীহ বলেন আমি মসজিদে হারামে ঘুমিয়েছিলাম। তখন আমার স্বপ্নদোষ হল। তাবেয়ী সায়ীদ ইবনে জুবাইর রহ. কে জিজ্ঞেস করলাম কি করব? বলেন গোসল করে আস। অর্থাৎ তিনি তাকে মসজিদে ঘুমাতে নিষেধ করেননি। (মুসান্নাফে ইবনে আবীশাইবা হা. ৪৯২৩ )

۷. وقال عمرو بن دينار : كنا نبيت في المسجد على عهد ابن الزبير -হযরত আমর ইবনে দীনার বলেন সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর রা. এর খিলাফত কালে আমরা মসজিদেই রাত যাপন করতাম। (ফাতহুল বারী, ইবনে রজব।)

সারকথা, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলইহি ওয়সাল্লাম, খলীফাতুল মুসলিমীন হযরত উমর, হযরত উসমান, হযরত আলী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর, হযরত আবুযর গিফারী রা. ও আহলে ছুফ্ফা সকলেই মসজিদে ঘুমিয়েছেন। তাই তাবেয়ী-তবে তাবেয়ীনের অনেকেই মসজিদে ঘুমিয়েছেন এবং নির্দ্বিধায় মসজিদে ঘুমানোকে জায়েয বলেছেন। ফলে প্রসিদ্ধ চার মাযহাবের ইমামগণ আবু হানীফা, মালেক, শাফেয়ী ও আহমদ ইবনে হাম্বল রহ. প্রয়োজনে মসজিদে ঘুমানোকে জায়েয বলেছেন। তবে ইমাম মালেক ও আহমদ রহ. বলেছেন নিজের পৃথক ঘুমানোর জায়গা থাকা সত্ত্বেও মসজিদকে নিয়মিত ঘুমানোর জায়গা বানিয়ে নেয়া উচিত নয়। হাঁ ইবাদত ও নেক কাজের উদ্দেশ্যে সকল মাযহাবেই নির্দ্বিধায় মসজিদে ঘুমানো জায়েয। (দ্র. ফাতহুল বারী ইবনে রজব, ই‘লামুস্-সাজিদ বিআহ্কামিল মাসাজিদ মুহাম্মদ ইবনে আব্দিল্লাহ যারকাশী (মৃ.৭৯৪ হি.) পৃ. ৩০৫-৩০৭)

হানাফী আলেমদের মতে, বদরুদ্দীন আইনী রহ. (মৃ. ৮৫৫ হি.) হানাফী মাযহাবের একজন উল্লেখযোগ্য মুহাদ্দিস ও ফকীহ। মসজিদে ঘুমানো জায়েয হওয়া সম্পর্কে তাঁর সুস্পষ্ট বক্তব্য পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। তথাপি হানাফী মাযহাবের প্রসিদ্ধ কিতাব ‘আলফাতাওয়াল হিন্দিয়া’য় (ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী) উদ্ধৃত হয়েছে وَلَا بَأْسَ لِلْغَرِيبِ وَلِصَاحِبِ الدَّارِ أَنْ يَنَامَ في الْمَسْجِدِ في الصَّحِيحِ من الْمَذْهَبِ وَالْأَحْسَنُ أَنْ يَتَوَرَّعَ فَلَا يَنَامُ كَذَا في خِزَانَةِ الْفَتَاوَى বিশুদ্ধ মত অনুসারে মুসাফির ও স্থানীয় উভয়ের জন্যই মসজিদে ঘুমানো জায়েয। তবে উত্তম হল (অবশ্য প্রয়োজন ছাড়া) না ঘুমানো। খিযানাতুল ফাতাওয়া। (ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী)

তবে অপ্রয়োজনে ঘুমানো উচিত নয় উল্লেখ করে অনত্র বলেন

وَيُكْرَهُ النَّوْمُ وَالْأَكْلُ فيه لِغَيْرِ الْمُعْتَكِفِ وإذا أَرَادَ أَنْ يَفْعَلَ ذلك يَنْبَغِي أَنْ يَنْوِيَ الِاعْتِكَافَ فَيَدْخُلَ فيه وَيَذْكُرَ اللَّهَ تَعَالَى بِقَدْرِ ما نَوَى أو يُصَلِّيَ ثُمَّ يَفْعَلَ ما شَاءَ كَذَا في السِّرَاجِيَّةِ

ই‘তিকাফের নিয়ত ছাড়া মসজিদে ঘুমানো ও খাওয়া-দাওয়া করা মাকরূহ (তবে এটি মাকরূহে তাহরীমী তথা হারাম নয়; বরং মাকরূহে তান্যীহী অর্থাৎ অপসন্দনীয় ও অনুচিত কাজ)। তাই যদি কেউ মসজিদে ঘুমাতে চায়, তাহলে তার উচিৎ ই‘তিকাফের নিয়তে মসজিদে প্রবেশ করে ইচ্ছানুসারে আল্লাহর যিকর অথবা নামায পড়ে নেবে। তার পর যা ইচ্ছা করবে। সিরাজিয়া। (ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী)

ইমাম আলাউদ্দীন হাছ্কাফী রহ. (মৃ. ১০৮৮ হি.) এর বক্তব্যের ব্যাখ্যায় ইবনে আবীদীন শামী রহ. (মৃ.১২৬০ হি.) তাঁর বিখ্যাত ফিকাহ গ্রন্থ “ফতুয়ায়ে শামীতে” লেখেন

قال فى الدر المختار: لكن قال ابن كمال لا يكره الأكل والشرب والنوم فيه مطلقا ونحوه في المجتبى. وقال ابن عابدين فى شرحه: ( قوله لكن إلخ ) استدراك على ما في الأشباه وعبارة ابن الكمال عن جامع الإسبيجابي لغير المعتكف أن ينام في المسجد مقيما كان أو غريبا أو مضطجعا أو متكئا رجلاه إلى القبلة أو إلى غيرها فالمعتكف أولى ا هـ ونقله أيضا في المعراج وبه يعلم تفسير الإطلاق. قال ط : لكن قوله رجلاه إلى القبلة غيرمسلم لما نصوا عليه من الكراهة ومفاد كلام الشارح ترجيح هذا الاستدراك. والظاهر أن مثل النوم الأكل والشرب إذا لم يشغل المسجد ولم يلوثه لأن تنظيفه واجب كما مر.

ইবনু কামাল পাশা রহ.‘জামে ইস্বীজানীর’ উদ্ধৃতিতে বলেন ই‘তিকাফকারী ছাড়া অন্যদের জন্যও মসজিদে ঘুমানো জায়েয। ব্যক্তি স্থানীয় হোক বা মুসাফির। চিৎ হয়ে ঘুমাক কিংবা কিবলার দিকে বা যে কোন দিকে পা দিয়ে। সুতরাং ই‘তিকাফকারীর জন্য মসজিদে ঘুমানো জায়েয হওয়ার বিষয়টি সুস্পষ্ট। শামী রহ. বলেন মি‘রাজুদদিরায়া কিতাবেও তা উদ্ধৃত করেছেন। ... তবে তাঁর বক্তব্যে কিবলার দিকে পা দেওয়া জায়েয হওয়ার বিষয়টি অগ্রহণযোগ্য। বরং তা মাকরূহ। শামী রহ. বলেন মসজিদে ঘুম খাবার-দাবার জায়েয বটে; কিন্তু তা যেন মসজিদকে অপবিত্র না করে। কারণ মসজিদ পবিত্র রাখা ওয়াজিব। (রদ্দুল মুহতার ফাতাওয়ায়ে শামী)

সুতরাং মসজিদে ই‘তিকাফের নিয়ত ছাড়াই ঘুমানো জায়েয। তবে ই‘তিকাফের নিয়ত করে নেয়া ভাল। তবে সর্বাবস্থায়ই মসজিদের আদবের প্রতি লক্ষ রাখা আবশ্যক।

উপরোল্লেখিত আলোচনা থেকে সুস্পষ্ট বুঝা যায়,

১. যার থাকার যায়গা নেই, যে মসাফির বা পথিক (এখানে মুসাফির বলতে বাড়ি থেকে দূরে যে কোন লোককেই বুঝানো হয়েছে। ফিকহ শাস্ত্রের পরিভাষার মুসাফির উদ্দেশ্য নয়)

৩. যে ইবাদত বন্দেগী তথা নেক কাজ করার জন্য মসজিদে থাকতে চায়, ৩.যে ইতিকাফের নিয়ত করেছে,

৪. যে দীনী ইলম জ্ঞান শিখতে বা শিখাতে চায় তাদের সকলের জন্যত মসজিদে থাকা অবশ্যই জায়েয।

৫. বরং এসকল উদ্দেশ্য ছাড়াও মসজিদে ঘুমানো যায়েজ। তবে এক্ষেত্রে ইতিকাফের নিয়ত করে নেয়া ভাল।

বলা বাহুল্য যে, ১.তাবলীগ জামাতের লোকেরা সাধারণত মুসাফিরই হয়ে থাকে। অন্তত বাড়ী থেকে এত দূরে যায় যেখান থেকে বাড়ীতে এসে ঘুমাতে হলে তাঁর দাওয়াতের কাজ, তাঁর দীন শিক্ষা করা বা দীন শিক্ষা দেওয়ার মূল উদ্দেশ্যটিই ব্যর্থ হবে। ২.তা ছাড়া তাবলীগে গমনের একটি মৌলিক উদ্দেশ্য হল তালীমের মাধ্যমে, মোজাকারা (পরষ্পরে আলোচনা) ও মোশাওয়ারার মাধ্যমে নিজে দীন শিক্ষা করা, অন্য নতুন সাথীদেরকে দীন শিক্ষা দেওয়া এবং এলাকার মসলামান ভাইদেরকে দীন শিক্ষা দেওয়া ও তাদেরকে মসজিদমুখী করা। ৩.তাছাড়া তাবলীগে গমনের আরেকটি প্রধান উদ্দেশ্য হল, মানুষ আপন বাড়িতে নিজ পরিবেশে থেকে গুনাহে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। তাদের গুনাহের অভ্যাস ছাড়িয়ে নেক কাজের প্রতি আকৃষ্ট করে তোলার জন্যই বছরে এবং মাসে কিছু দিন আল্লাহর ঘরে নেক কাজের উদ্দেশ্যে থাকা। ৪. লোকেরা যখন তাবলীগের উদ্দেশ্যে বের হয়, তখন মারকাজ থেকে তাদের উদ্দেশ্যে বেশ কিছু গুরুত্ত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেয়া হয় অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে কঠুরতার সাথে। তাদের পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত যিম্মাদারকে তত্ত্বাবধান করার দায়িত্ব থাকে। তখন তাদের বলা হয় সব সময় নফল ইতিকাফের নিয়ত করে রাকতে। এবং মসজিদের সকল আদব রক্ষা করে চলতে।

সুতরাং উপরে উল্লেখিত চারটি কোন একটি শর্ত না থাকলেও মসজিদে ঘুমানো যায়েজ। কোন একটি শর্ত পাওয়া গেলেত অবশ্যই যায়েজ। আর যদি চারটি শর্তই থাকে তাহলে তাদের মসজিদে থাকার বিষয়ে প্রশ্ন তোলে সাহস কার আছে বলেন!

বিশেষ করে আল্লাহ তাআলা হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামকে হুকুম করেছেন “ তোমরা আমার ঘরকে তাওয়াফকারী, ইতিকাফকারী ও রুকু সেজদাকারী তথা নামাযীদের জন্য পবিত্র করে রাখ” (২.সূরা বাকারা আয়াত ১২৫)

এখানে আল্লাহ তাআলা ইতিকাফকারীদের জন্য তাঁর ঘরকে সাজিয়ে রাখতে বলেছেন। সুতরাং কেউ যদি মসজিদে থাকার সময় ইতিকাফের নিয়ত করে তাহলে কার সাধ্য আছে আল্লাহর মেহমানকে আল্লাহর ঘরে থাকতে বাধা দেয়ার!

আসলে আমাদের সমাজের সাধারণ মুসলমানরা না জানার কারণে বা কিছু মুর্খ, স্বার্থান্বেশী, দাওয়াতজীবী ও ওয়াজজীবী দাওয়াত খাওয়া ও ওয়াজেব্যবসা করাই যাদের পেশা এমন লোকদের কথায় কথায় কত বড় অন্যায় করে আসছে! এটাত আল্লাহর বিরুদ্ধে শত্রুতা! আল্লাহর দুশমনি! হায়, কে বুঝাবে তাদের। এরা বুঝতেও রাজি না। আল্লাহ, এরাত আমাদেরই জ্ঞাতি ভাই। এদের তুমি সঠিক জ্ঞান দান কর। আমাদেকে এবং তাদেরকে সকলকে ক্ষমা করে দাও।

(২) ই‘তিকাফের সময় ও এর জন্য রোজা

কেউ কেউ বলে থাকেন, ইতিকাফের জন্য রোজা রাখা আবশ্যক। তাবলীগীরা যেহেতু রোজা রাখেনা, তাই তাদের ইতিকাফের নিয়ত করলেও তা ধর্তব্য হবে না!

কিন্তু তাদের এ বক্তব্য নিতান্তই অবান্তর। কারণ ই‘তিকাফ তিন প্রকার। ওয়াজিব, সুন্নত ও নফল। প্রথম দুই প্রকার ই‘তিকাফের জন্য (ইমাম আবুহানীফা, আবু ইউসূফ ও মুহাম্মদ রহ. এর মতানুসারে) রোজা রাখা শর্ত। (দ্র. আহকামুল কুরআন জাছ্ছাছ) কিন্তু নফল ই‘তিকাফের জন্য কোন নির্দিষ্ট সময়ের প্রয়োজন নেই। যে কোন মুহুর্তে হয়। এবং এর জন্য রোজা রাখাও শর্ত নয়।

ইবনে আবীদীন শামী রহ. বলেন ( وأقله نفلا ساعة ) من ليل أو نهار عند محمد وهو ظاهر الرواية عن الإمام لبناء النفل على المسامحة وبه يفتى ইমাম মুহম্মদ রহ. এর মতে নফল ই‘তিকাফের সর্বনিম্ন পরিমাণ এক মহুর্ত। ইমাম ইবুহানীফা রহ. এর মতও এটিই। তাঁর থেকে এ মতটি ‘জাহেরী রেওয়াতের’ আলোকে অর্থাৎ নির্ভরযোগ্য ও সুনিশ্চিতভাবে প্রমাণিত। এমতের উপরই ফতোয়া দেওয়া হয়। (রদ্দুল মুহ্তার ফাতওয়ায়ে শামী)

ই‘তিকাফের জন্য রোজা রাখা শর্ত কি না, এ প্রসঙ্গে ইমাম আবু হানীফা রহ. থেকে দুই ধরণের বর্ণনাই রয়েছে। তবে এর মধ্যে ‘জাহেরে রেওয়ায়াত’ হল, নফল ই‘তিকাফের জন্য রোজা রাখা জরুরী নয়। কারণ নফল ই‘তিকাফ এক মহুর্তের জন্যও হয়ে থাকে। এ প্রসঙ্গে ফকীহ ইবনে নুজাইম রহ. বলেন

( قوله : وأقله نفلاساعة ) لقول محمد في الأصل إذا دخل المسجد بنية الاعتكاف فهو معتكف ما أقام تارك له إذا خرج فكان ظاهر الرواية واستنبط المشايخ منه أن الصوم ليس من شرطه على ظاهر الرواية ؛ لأن مبنى النفل على المسامحة حتى جازت صلاته قاعدا ، أو راكبا مع قدرته على الركوب والنزول ولا يخفى أن ما ادعاه أمر عقلي مسلم وبهذا لا يندفع ما صرح به المشايخ الثقات من أن ظاهر الرواية أن الصوم ليس من شرطه وممن صرح به صاحب المبسوط وشرح الطحاوي وفتاوى قاضي خان والذخيرة والفتاوى الظهيرية والكافي للمصنف والبدائع والنهاية وغاية البيان والتبيين وغيرهم والكل مصرحون بأن ظاهر الرواية أن الصوم ليس من شرطه

অর্থাৎ ই‘তিকাফ সম্পর্কে ‘জাহেরে রেওয়ায়াতের’ আলোকে দুটি বিষয় প্রমাণিত: ১. (নফল) ই‘তিকাফের সর্বনিম্ন পরিমাণ এক মহুর্ত ২. রোযা রাখা (নফল) ই‘তিকাফের জন্য শর্ত নয়। ফুকাহা-মাশায়েখ স্পষ্ট ভাষায় একথা উল্লেখ করেছেন। হানাফী মাযহাবের ১.আলমাবসূত, ২.শরহু মুখতাছারুত্তাহাবী, ৩.ফাতওয়ায়ে কাযী খান, ৪.যাখীরা, ৫.ফাতাওয়ায়ে জহীরিয়া, ৬.আল কাফী, ৭.বাদাইউছ ছানায়ে, ৮.আননিহায়া, ৯.গায়াতুল বয়ান, ১০.তাব্য়ীন ইত্যাদি কিতাবে একথা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। (আল-বাহ্রুর রায়েক, আরো দ্রষ্টব্য ফাতহুল কাদীর, রাদ্দুল মুহ্তার (ফাতাওয়ায়ে শামী), আলমুহীতুল বুরহানী ইত্যাদি)

এটিই হানাফী মাযহাবে গ্রহণযোগ্য মত। ইমাম মুহাম্মদ রহ. এর সপক্ষে দলীল হিসেবে বর্ণনা করেন

أخبرنا محمد عن أبي يوسف عن ليث بن أبي سليم عن الحكم عن مقسم عن علي بن أبي طالب رضوان الله عليه أنه قال ليس على المعتكف صوم إلا أن يوجبه على نفسه-المبسوط لمحمد.

হযরত আলী রা. বলেন ই‘তিকাফকারীর জন্য রোজা রাখা জরুরী নয়। তবে সে যদি নিজের উপর (মান্নতের মাধ্যমে) রোজা ওয়াজিব করে তাহলে ভিন্ন কথা। (কিতাবুল আছল মাবসূতে মুহাম্মদ)

সুতরাং দ্বীনি প্রয়োজনে বা কোন ভাল উদ্দেশ্যে মসজিদে থাকতে হলে নফল ই‘তিকাফের নিয়ত করে নিতে কোন সমস্যা নেই। এতে মসজিদে ঘুমানো জায়েযত হবেই, উপরন্তু তার ঘুম, খাওয়া-দাওয়া সবটাই ইবাদতে গণ্য হবে। হাঁ, মসজিদে অবস্থানকারীদের জন্য মসজিদের আদবের প্রতি যত্নবান হওয়া বাঞ্ছনীয়। কারা জানা না থাকার কারণে বা ভুলে আদবের খেলাফ কিছু হয়ে গেলে, যে জানে তার দায়িত্ব হল তাকে জানিয়ে দেয়া।

এজন্যই তাবলীগ জামাতের পক্ষ থেকে যখন কোন জামাতকে কোন মসজিদে পাঠানো হয়, তখন অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে মসজিদের আদব সমূহ তাদের রপ্ত করিয়ে দেওয়া হয়। তাতে সাধারণ শিক্ষিত-অশিক্ষত নানা ধরণের লোক থাকে বলেই তাদের মধ্যে এক্ষেত্রে কিছু ভুল-ত্রুটি হয়ে যাওয়াটা স্বাভাবিক। আমাদের দায়িত্ব হল কারো ভুল ত্রুটি ধরা পড়লে তাকে মার্জিত ভাবে বলে দেওয়া। কিন্তু একে কেন্দ্র করে ‘তাবলীগ জামাতের’ কোন দূর্ণাম করার সুযোগ নেই। এবং কারো ব্যক্তিগত ভুল-ত্রুটির জন্য ‘মসজিদে ঘুমানো জায়েয, এ হুকুম পরিবর্তন করে ফেলার মত দুঃসাহস আমাদের হয় কি করে। আল্লাহ তা‘আলা আমাদের হিফাযত করেন।

(৩) মসজিদে বাতকর্ম (বায়ূ ত্যাগ) করা:

আবার কেউ কেউ নির্লজ্জের মত তাবলীগীদের বদনাম করার জন্য বলে এরা মসজিদ নাপাক করে। এদেরকে মসজিদে থাকতে দেওয়া উচিত নয়।

কিন্তু তাঁদের এ মন্তব্যটি বড়ই দুঃখ জনক। মূলত এটি বিদ্বেষ প্রসূত। হিংসা বিদ্বেষের বসবর্তী হয়েই মানুষ এ ধরণের অপকথা বলতে থাকে। বস্তুত মসজিদ ইবাদতের স্থান। একে দুর্গন্ধযুক্ত বস্তু থেকে পবিত্র রাখা জরুরী। অপরদিকে আমাদেরকে নামায, তিলাওয়াত, যিকির, তালীম (দ্বীনি শিক্ষা-দীক্ষার কাজ) ও ওয়াজ-নসীহতের জন্য আমাদের মসজিদে অবস্থান করতে হয়। ফলে যে কোন সময় বায়ূ নিঃসারণের সম্ভাবনা থাকে। কারণ বায়ূ ত্যাগের বিষয়টি অনেক সময়ই ইচ্ছাধীন থাকেনা। আপনিতেই বের হয়ে যায়। তাই অনিচ্ছাকৃত ভাবে বায়ূ ত্যাগ হয়ে গেলে তাতে কোন সমস্যা নেই। বরং হাদীস থেকে বুঝা যায় নামাযে থাকাকালীন সময়ে বা নামায শেষে বায়ূ ত্যাগের প্রয়োজন হলে ইচ্ছাকৃত বায়ূ নিঃসারণ করলেও গুনাহ হবে না। এখানে কয়েকটি হাদীস উদ্ধৃত করছি

১. হযরত আয়শা (রা) বলেন

عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: قَالَ النَّبِيُّ: " إِذَا أَحْدَثَ أَحَدُكُمْ فِي صَلَاتِهِ فَلْيَأْخُذْ بِأَنْفِهِ ثُمَّ لِيَنْصَرِفْ ".


রসুলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন তোমাদের কেউ যদি নামাযে ‘বায়ূ ত্যাগ’ করে, তাহলে সে যেন নাক চেপে ধরে নামাযের স্থান থেকে বের যায়। (অতঃপর অযু করে বাকী নামায পূর্ণ করে)। (সুনানে আবু দাউদ হা. ১১১৪)

২. হযরত আবু সাঈদ খুদরী রা. বর্ণনা করেন


أنَّ رَسُولَ اللَّهِ قَالَ: " إِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ فَلَمْ يَدْرِ زَادَ أَمْ نَقَصَ فَلْيَسْجُدْ سَجْدَتَيْنِ وَهُوَ قَاعِدٌ فَإِذَا أَتَاهُ الشَّيْطَانُ، فَقَالَ: إِنَّكَ قَدْ أَحْدَثْتَ، فَلْيَقُلْ: كَذَبْتَ إِلَّا مَا وَجَدَ رِيحًا بِأَنْفِهِ أَوْ صَوْتًا بِأُذُنِهِ

রসুলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন ... আর যদি শয়তান কারো মনে সন্দেহ সৃষ্টি করে বলে, তোমার অযু ভেঙে গেছ, তাহলে সে তাকে বলবে মিথ্যা কথা। তাই বায়ূ নিঃসরণের সন্দেহ হলেই সে নামায ত্যাগ করবে না। হাঁ, যখন তার নাকে দুর্গন্ধ লাগে, অথবা নিজ কানে বায়ূ ত্যাগের আওয়াজ শুনে (অর্থাৎ বায়ূ ত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত হলে) তবেই সে নামায ত্যাগ করতে পারবে। (সুনানে আবু দাউদ হা. ১০২৯)

অর্থাৎ বায়ূ ত্যাগের চাপ অনুভব করলে তা আটকানোর চেষ্টা করবে। যদি সম্ভব না হয়, তাহলে বায়ূ ত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই নামায ভাঙবে। অন্যথায় নয়।

৩. হযরত আবু হুরায়রা রা. বর্ণনা করেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন

" لَا يَزَالُ الْعَبْدُ فِي صَلَاةٍ، مَا كَانَ فِي مُصَلَّاهُ يَنْتَظِرُ الصَّلَاةَ، وَتَقُولُ الْمَلَائِكَةُ: اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ، اللَّهُمَّ ارْحَمْهُ، حَتَّى يَنْصَرِفَ أَوْ يُحْدِثَ "، قُلْتُ: مَا يُحْدِثُ؟ قَالَ: يَفْسُو أَوْ يَضْرِطُ. رواه مسلم والبخارى.

আল্লাহর কোন বান্দা যতক্ষণ পর্যন্ত নামাযের স্থানে নামাযের অপেক্ষায় বসে থাকে, ততক্ষণ সে নামাযেই থাকে। ফেরেশতারা বলতে থাকেন, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিন। তার উপর রহমত নাযিল করুন। যখনি সে স্থান ত্যাগ করে বা অযু ভেঙে যায় তখন আর সে নামাযি গণ্য হয় না এবং ফেরেশতারাও দোয়া বন্ধ করে দেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি হযরত আবু হুরায়রা রা. কে জিজ্ঞেস করলাম অযু ভাঙা মানে কী? তিনি বলেন বায়ূ ত্যাগ করা। (সহীহ মুসলিম, হা.১০৬৭ সহীহ বুখারী)

ইমাম বুখারী রাহ. সহীহ বুখারীতে এ হাদীসের শিরোনাম দিয়েছেন ‘ باب الحدث في المسجدِ ’ “মসজিদে বায়ূত্যাগ (জায়েজ হওয়ার) অধ্যায়”। সুতরাং এ হাদীস থেকে বুঝা যায় নামাযের স্থানে বসেই সে বায়ূ ত্যাগ করেছে। তথাপি তাকে হাদীসে কোন রূপ তিরস্কার করা হয়নি। তাই মসজিদে বায়ূত্যাগ করা কোন রূপ গোনা‎‎হ্র কাজ নয়। কিন্তু মসজিদে এরূপ ইচ্ছাকৃত না করাটাই ভাল।

তাই ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়ায় বলা হয়েছে, وقال فى الهندية: وَاخْتُلِفَ في الذي يَفْسُو في الْمَسْجِدِ فلم يَرَ بَعْضُهُمْ بَأْسًا وَبَعْضُهُمْ قالوا لَا يَفْسُو وَيَخْرُجُ إذَا احْتَاجَ إلَيْهِ وهو الْأَصَحُّ كَذَا في التُّمُرْتَاشِيِّ. انتهىى من كتاب الكراهية,

মসজিদে ইচ্ছাকৃত বায়ূ ত্যাগ করা বিষয়ে ফুকাহায়ে কেরাম দ্বিমত পোষণ করেছেন। তাঁদের একদল এটাকে কোন সমস্যা মনে করেননি। অপর একদল ফকীহ বলেন মসজিদে ইচ্ছাকৃত বায়ূ ত্যাগ করবে না। বরং প্রয়োজন অনুভব করলে বাইরে চলে যাবে। তামারতাশী বলেছেন এমতটি অধিক বিশুদ্ধ (অর্থাৎ ইচ্ছাকৃত বায়ূত্যাগ থেকে বিরত থাকা। বলাবাহুল্য ভদ্রজন কখনোই মানুষের ভরা মজলিসে ইচ্ছাকৃত বায়ূ ত্যাগ করেন না) (আলমগীরী, কিতাবুল কারাহিয়্যা)

সুতরাং যে ব্যক্তি ই‘তিকাফ করে বা মসজিদে কোন কারণে ঘুমায়, অথবা মসজিদে নামায পড়তে আসে, তার থেকে অনিচ্ছাকৃত বা ইচ্ছাকৃত বায়ূ ত্যাগ হয়ে যায়। এমনটি হওয়াই স্বাভাবিক। এবং তাঁর হৃদয়ে যদি আল্লাহর ঘরের প্রতি কোনরূপ তাচ্ছিল্য না থাকে তাহলে তাতে গুনাহ্র কিছু আছে বলে আমাদের জানা নেই।


তাহলে আপনাদের মানতে হবে হিজরত করা বিদআত:

এতো কিছু বলার পরও যদি মনে করেন হিজরত করা বিদআত তবে কুরআনের আয়াত দেখুন:

০১. আর যারা সর্বপ্রথম হিজরতকারী ও আনছারদের মাঝে পুরাতন, এবং যারা তাদের অনুসরণ করেছে, আল্লাহ সে সমস্ত লোকদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে। আর তাদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন কানন-কুঞ্জ, যার তলদেশ দিয়ে প্রবাহিত প্রস্রবণসমূহ। সেখানে তারা থাকবে চিরকাল। এটাই হল মহান কৃতকার্যতা। (৯.সুরা তাওবা: ১০০)

০২. যে কেউ আল্লাহর পথে দেশত্যাগ করে, সে এর বিনিময়ে অনেক স্থান ও সচ্ছলতা প্রাপ্ত হবে। যে কেউ নিজ গৃহ থেকে বের হয় আল্লাহ ও রসূলের প্রতি হিজরত করার উদ্দেশে, অতঃপর মৃত্যুমুখে পতিত হয়, তবে তার সওয়াব আল্লাহর কাছে অবধারিত হয়ে যায়। আল্লাহ ক্ষমাশীল, করুণাময়। (৪.সুরা নিসা:১০০)

০৩. অতঃপর তোমরা পরিভ্রমণ কর এ দেশে চার মাসকাল। আর জেনে রেখো, তোমরা আল্লাহকে পরাভূত করতে পারবে না, আর নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফেরদিগকে লাঞ্ছিত করে থাকেন। (৯. সূরা তওবা :২)

০৪. এতে কোন সন্দেহ নেই যে, যারা ঈমান এনেছে, দেশ ত্যাগ করেছে, স্বীয় জান ও মাল দ্বারা আল্লাহর রাহে জেহাদ করেছে এবং যারা তাদেরকে আশ্রয় ও সাহায্য সহায়তা দিয়েছে, তারা একে অপরের সহায়ক। আর যারা ঈমান এনেছে কিন্তু দেশ ত্যাগ করেনি তাদের বন্ধুত্বে তোমাদের প্রয়োজন নেই যতক্ষণ না তারা দেশত্যাগ করে। অবশ্য যদি তারা ধর্মীয় ব্যাপারে তোমাদের সহায়তা কামনা করে, তবে তাদের সাহায্য করা তোমাদের কর্তব্য। কিন্তু তোমাদের সাথে যাদের সহযোগী চুক্তি বিদ্যমান রয়েছে, তাদের মোকাবেলায় নয়। বস্তুতঃ তোমরা যা কিছু কর, আল্লাহ সেসবই দেখেন। (৮.সুরা আনফাল: ৭২)


০৫. আর যারা ঈমান এনেছে, নিজেদের ঘর-বাড়ী ছেড়েছে এবং আল্লাহর রাহে জেহাদ করেছে এবং যারা তাদেরকে আশ্রয় দিয়েছে, সাহায্য-সহায়তা করেছে, তাঁরা হলো সত্যিকার মুসলমান। তাঁদের জন্যে রয়েছে, ক্ষমা ও সম্মানজনক রুযী। (৮.সুরা আনফাল:৭)

এখন হয়তো আপনাদের নমে প্রশ্ন আসতে পারে তাবলিগী কাজের মধ্যেতো জিহাদ নেই, তারা জিহাদ করতে প্রস্তুত নয়, তারা কোথাও কোনো বিবাদ বা ঝগড়া দেখা দিলে বাধা দেয় না। জবাবটা নিতে হলে ধৈর্য সহকারে পড়তে হবে। দয়াকরে ধৈর্য হারাবেন না।

এটা একটা ভান্ত্র ধারনা যে তারা জিহাদে প্রস্তুত নয়, প্রথম দৃস্টান্ত হল শাপলা চত্তরের ঘটনা যেটা ৫ই মে রাতে ২০১৩ ঘটেছিল। হেফাজতে ইসলামের সাথীরা প্রত্যক্ষ ও পরক্ষ ভাবে তাবলীগ করেন এবং আপনাদের জ্ঞাতার্থে বলা উচিত যে তারা কওমী মাদ্রাসার ছাত্র এবং শিক্ষক। যদিও তাদের মধ্যে সাধারণ জনগনও ছিল।।।


ইমাম তাহাভী (রঃ) বলেনঃ মুসলমানদের ইমামের নের্তৃত্বে কিয়ামত পর্যন্ত জেহাদের বিধান বলবৎ থাকবে। কোন কিছুই এটিকে বাতিল ও রহিত করতে পারবে না। (দেখুনঃ শরহে আকীদাতুত তাহাভী, ৩৮১ পৃষ্ঠা) তবে জেহাদ ফরজ হওয়ার নির্দিষ্ট শর্ত ও উদ্দেশ্য রয়েছে। বর্তমান সময়ে জেহাদ সম্পর্কে নানা ধরণের ভুল-ভ্রান্তি রয়েছে। কতিপয় মূর্খ লোক জেহাদের নামে জঙ্গি তৎপরতা ও এখানে সেখানে বোমাবাজিতে লিপ্ত রয়েছে। এ ধরণের অপকর্ম ইসলাম কখনই সমর্থন করে না। জেহাদ ফরজ হওয়ার উদ্দেশ্য হলো পৃথিবীতে তাওহীদ তথা আল্লাহর একত্ববাদ প্রতিষ্ঠা করা এবং কুফর ও শির্কের অবসান ঘটানো। আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّى لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ الدِّينُ كُلُّهُ لِلَّهِ -“আর তাদের সাথে যুদ্ধ করতে থাক যতক্ষণ না ফিতনা (কুফর-শির্ক) শেষ হয়ে যায় এবং আল্লাহর দ্বীন সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর জন্যেই হয়ে যায়। (৮.সূরা আনফালঃ ৩৯) নবী কারিম (স:) বলেনঃ


أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَشْهَدُوا أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ وَيُقِيمُوا الصَّلَاةَ وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ فَإِذَا فَعَلُوا ذَلِكَ عَصَمُوا مِنِّي دِمَاءَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ إِلَّا بِحَقِّ الْإِسْلَامِ وَحِسَابُهُمْ عَلَى اللَّهِ

“আমাকে মানুষের সাথে জেহাদ করার আদেশ দেয়া হয়েছে যতক্ষণ না তারা এই সাক্ষ্য দিবে যে, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর রাসূল এবং নামায প্রতিষ্ঠা না করবে ও যাকাত না দিবে। যখন তারা উপরের কাজগুলো সম্পাদন করবে তখন তারা আমার হাত থেকে নিজেদের জান ও মাল নিরাপদ করে নিল। জেহাদ ফরজ হওয়ার শর্ত সম্পর্কে আলোচনা করার পূর্বে জেহাদের প্রকারভেদ সম্পর্কে অবগত হওয়া অত্যন্ত জরুরী। কারণ অনেক মানুষই জেহাদের প্রকারভেদ সম্পর্কে অজ্ঞ। কুরআন ও হাদীছ গবেষণার মাধ্যমে আমরা জানতে পারি যে, জেহাদ মোট পাঁচ প্রকার।

(১) নফসের সাথে জেহাদ করাঃ

নফসের সাথে জেহাদের অর্থ হল নফসকে আল্লাহর আনুগত্যের কাজে বাধ্য করা, ভাল কাজের প্রতি সর্বদা তাকে আদেশ করা এবং অসৎ কাজ হতে বারণ করা। নফসের সাথে জেহাদ ব্যতীত কেউ শত্রুর বিরুদ্ধে জেহাদ করতে সক্ষম হবেনা।

(২) শয়তানের বিরুদ্ধে জেহাদ করাঃ

শয়তান মানুষের আদি শত্রু। সে মানুষকে নানা অপকর্মের আদেশ করে থাকে। তাই শয়তানের সাথে সদা সংগ্রামে লিপ্ত থাকতে হবে। শয়তানের আদেশ অমান্য করতে হবে এবং সে যা হতে নিষেধ করে তাই করতে হবে।


(৩) পাপী মুসলমানদের সাথে জেহাদঃ

অভ্যন্তরীণ শত্রু তথা শয়তান ও নফসের বিরুদ্ধে জেহাদ করে যে ব্যক্তি জয়লাভ করতে পারবে, তার উপর অন্যান্য শত্রুদের সাথে জেহাদ করা ওয়াজিব। প্রথমেই আসে গুনাহগার ও পাপী মুসলমানদের কথা। তাদের সাথেও জেহাদ করতে হবে। তবে তাদের বিরুদ্ধে তলোয়ারের জেহাদ নেই। তাদেরকে সাধ্য অনুযায়ী সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজের নিষেধ করতে হবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ


مَنْ رَأَى مِنْكُمْ مُنْكَرًا فَلْيُغَيِّرْهُ بِيَدِهِ فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِلِسَانِهِ فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِهِ وَذَلِكَ أَضْعَفُ الْإِيمَانِ

“তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি অন্যায় কাজ হতে দেখে সে যেন হাত দিয়ে বাধা দেয়। হাত দিয়ে বাধা দিতে না পারলে জবান দিয়ে বাধা দিবে। তাও করতে না পারলে অন্তর দিয়ে হলেও বাধা দিবে। এটি সবচেয়ে দুর্বল ঈমানের পরিচয়”। (সহীহ মুসলিম)

বর্তমান সময়ে বিভিন্ন অঞ্চলে এক শ্রেণীর মুসলমান জেহাদের নামে মুসলমানদেরকে হত্যা করার মত জঘণ্য কাজে লিপ্ত রয়েছে। তারা জেহাদের সঠিক অর্থ বুঝতে সক্ষম হয়নি।



(৪) মুনাফেকদের বিরুদ্ধে জেহাদঃ

মুনাফেকদের বিরুদ্ধে জেহাদের অর্থ এই যে, তাদের সন্দেহগুলো খন্ডন করা এবং তাদের থেকে সরলমনা মুসলমানদেরকে সাবধান করা। আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ
هُمْ الْعَدُوُّ فَاحْذَرْهُمْ “তারাই শত্রু। অতএব তাদের সম্পর্কে সতর্ক হোন। (৬৩.সূরা মুনাফিকূনঃ ৪) মুনাফেকদের বিরুদ্ধে জেহাদ জবানের মাধ্যমেই হবে। তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ করা যাবে না। আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ


يَاأَيُّهَا النَّبِيُّ جَاهِدْ الْكُفَّارَ وَالْمُنَافِقِينَ وَاغْلُظْ عَلَيْهِمْ

“হে নবী! কাফের ও মুনাফেকদের বিরুদ্ধে জেহাদ করুন এবং তাদের প্রতি কঠোর হোন। (৬৬. সূরা আত-তাহরীমঃ ৯) সুতরাং মুনাফেকদের বিরুদ্ধেও যুক্তি-তর্কের মাধ্যমে জেহাদ করতে হবে এবং কঠোর ভাষায় তাদের কর্ম-কান্ডের প্রতিবাদ করতে হবে। যেহেতু তারা মুসলিম সমাজেই বসবাস করে থাকে তাই তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করা যাবেনা। এতে মুসলমানদের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়বে। এজন্য নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুনাফেকদেরকে শাস্তি দেন নি এবং তাদেরকে দল থেকে বেরও করে দেন নি। তবে মুনাফেকদের চক্রান্তের বিরুদ্ধে সর্বদা সজাগ থাকতেন।


(৫) কাফেরদের বিরুদ্ধে জেহাদঃ


পৃথিবীতে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য এবং শির্কের পতন ঘটানোর জন্য আল্লাহ তা’আলা কাফেরদের বিরুদ্ধে অস্ত্রের মাধ্যমে জেহাদ করা এই উম্মতের উপর ফরজ করেছেন। তবে প্রথমেই এই জেহাদ ফরজ করেন নি। মক্কাতে থাকা অবস্থায় মুসলমানদের উপর জেহাদ করা নিষেধ ছিল। তাদেরকে হাত গুটিয়ে বসে থাকার আদেশ দেয়া হয়েছিল। এমনিভাবে নবুওয়াতের পর তেরোটি বছর চলে গেল। আপন গোত্রের লোকদের হাতে নির্যাতিত হয়েও আল্লাহর দ্বীনের প্রতি মানুষকে আহবান করতে থাকলেন।

সে সময় জেহাদ থেকে বিরত থাকার আদেশ দেয়ার কারণ এই যে, তখন মুসলমানগণ ছিল দুর্বল। এ অবস্থায় তাদেরকে সস্বস্ত্র জেহাদের আদেশ দেয়া হলে কাফেরেরা সহজেই তাদের বিরুদ্ধে জয়লাভ করতো এবং তাদেরকে নির্মূল করে ফেলত। ফলে অঙ্কুরেই দ্বীনের দাওয়াত মিটে যেত।


নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মদীনায় হিজরত করলেন এবং সেখানে গিয়ে শক্তি, সামর্থ এবং সহযোগী সংগ্রহ করতে সক্ষম হলেন তখন আল্লাহ তা’আলা মুসলমানদেরকে জেহাদের অনুমতি দিলেন। তবে বাধ্যতামূলক আদেশ দেন নি। আল্লাহ তা’লা বলেনঃ

أُذِنَ لِلَّذِينَ يُقَاتَلُونَ بِأَنَّهُمْ ظُلِمُوا وَإِنَّ اللَّهَ عَلَى نَصْرِهِمْ لَقَدِيرٌ “যুদ্ধের অনুমতি দেয়া হল তাদেরকে, যাদের সাথে কাফেরেরা যুদ্ধ করে; কারণ তাদের প্রতি অত্যাচার করা হয়েছে। আল্লাহ তাদেরকে সাহায্য করতে অবশ্যই সক্ষম”। (২২. সূরা হজ্জঃ ৩৯) এই আয়াতে শুধুমাত্র জেহাদের অনুমতি দেয়া হয়েছে। অথচ ইতিপূর্বে জেহাদ করা নিষিদ্ধ ছিল। অতঃপর ঐসমস্ত কাফেরদের বিরুদ্ধে জেহাদের আদেশ দেয়া হয়েছে যারা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে নিষেধ করা হয়েছে যারা যুদ্ধ করেনা। আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ

وَقَاتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ الَّذِينَ يُقَاتِلُونَكُمْ وَلَا تَعْتَدُوا إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ -“আর লড়াই কর আল্লাহর রাস্তায় তাদের সাথে যারা লড়াই করে তোমাদের সাথে। অবশ্য কারো প্রতি বাড়াবাড়ি করোনা। নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদেরকে পছন্দ করেন না”। (২. সূরা বাকারাঃ ১৯০) এখানে শুধু মাত্র আক্রমণকারী শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার আদেশ দেয়া হয়েছে। অতঃপর পরবর্তীতে মুসলমানদের যখন শক্তি অর্জিত হল এবং স্বাধীন রাষ্ট প্রতিষ্ঠিত হল তখন পৃথিবীতে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠা করার জন্য সকল প্রকার কাফেরের বিরুদ্ধে জেহাদ করার জন্য সাধারণ আদেশ দেয়া হল। আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ

فَاقْتُلُوا الْمُشْرِكِينَ حَيْثُ وَجَدْتُمُوهُمْ وَخُذُوهُمْ وَاحْصُرُوهُمْ وَاقْعُدُوا لَهُمْ كُلَّ مَرْصَدٍ فَإِنْ تَابُوا وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوْا الزَّكَاةَ فَخَلُّوا سَبِيلَهُمْ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ

“অতঃপর মুশরিকদের হত্যা কর। যেখানেই তাদের পাও, তাদের বন্দী এবং অবরোধ কর। আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওঁৎ পেতে বসে থাক। কিন্তু যদি তারা তাওবা করে, নামায কায়েম করে এবং যাকাত প্রদান করে তবে তাদের রাস্তা ছেড়ে দাও নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু”। (৯.সূরা তাওবাঃ ৪)

মুসলমান না হওয়া পর্যন্ত কাফেরদের বিরুদ্ধে জিহাদ করার আদেশ দেয়া হয়েছে। কারণ এ জন্যই তথা আল্লাহর এবাদতের জন্য আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং রিযিকের ব্যবস্থা করেছেন। সুতরাং আল্লাহ ছাড়া অন্যের এবাদত উচ্ছেদ করে পৃথিবীতে আল্লাহর এবাদত প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্যেই আল্লাহ জেহাদ ফরজ করেছেন। এজন্যই যারা তাওবা করবে, ঈমান আনয়ন করবে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হবেনা। কাফেরদেরকে যদি বিনা যুদ্ধে ছেড়ে দেয়া হয় তবে মুসলমানদের উপর তাদের অত্যাচার বেড়ে যাবে। কেননা তারা চায়না যে, পৃথিবীতে কোন মুসলমান অবশিষ্ট থাকুক। তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ না করা হলে তারা মুসলমানদেরকে হত্যা করবে, বাড়ি-ঘর থেকে বের করে দিবে এবং বিভিন্ন প্রকার কষ্ট দিবে। মুসলমানগণ যখন থেকে জেহাদ ছেড়ে দিয়েছে তখন থেকে তাদের উপর বিপদ-মুসীবত নেমে এসেছে এবং মুসলিম দেশ সমূহে বিভিন্ন মিশনারী সেবার নামে খৃষ্টান ধর্ম প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।

সর্বোপুরি কথা হল জেহাদ করতে হবে আল্লাহর দ্বীনকে বলুন্দ করার জন্যে। নবী (স:)কে জিজ্ঞাসা করা হলঃ এক ব্যক্তি জেহাদ করে নীজের গোত্রকে সাহায্য করার জন্যে, অন্য একজন জেহাদ করে বীরত্ব প্রদর্শন করার জন্যে আবার কেউ বা করে গণীমতের সম্পদ হাসিল করার জন্যে। এদের মধ্যে হতে কে আল্লাহর রাস্তায় জেহাদ করে থাকে? নবী (স:) বললেনঃ যে ব্যক্তি জেহাদ করবে আল্লাহর বাণীকে বলুন্দ করার জন্যে তার জেহাদ হবে আল্লাহর পথে। এছাড়া অন্য উদ্দেশ্যে যে ব্যক্তি জেহাদ করবে তার জেহাদ কখনই আল্লাহর পথে জেহাদ হিসাবে গণ্য হবেনা। যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে জেহাদ করতে গিয়ে নিহত হবে তাকে শহীদ হিসেবে গণ্য করা হবে। যদি নিহত না হয় তবে সে সাওয়াব ও গণিমত থেকে বঞ্চিত হবে না। আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ
وَلَا تَقُولُوا لِمَنْ يُقْتَلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْوَاتٌ بَلْ أَحْيَاءٌ وَلَكِنْ لَا تَشْعُرُونَ

“আর যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয় তাদের মৃত বলনা; বরং তারা জীবিত, কিন্তু তোমরা তা বুঝনা। (২.সূরা বাকারাঃ ১৫৪) নিহত না হলেও তারা ছাওয়াব, গণীমতের মাল, দুনিয়া ও আখেরাতের সম্মান নিয়ে ফেরত আসবে।” আলেমগণ আল্লাহর রাস্তায় কাফের বিরুদ্ধে জেহাদকে দুইভাগে ভাগ করেছেনঃ

১) ফরজে আঈনঃ

জেহাদ করতে সক্ষম এমন প্রতিটি মুসলিমের উপর তিন অবস্থায় জেহাদে অংশ গ্রহণ করা ফরজে আঈন।

(ক) আত্মরক্ষামূলক যুদ্ধঃ

কোন মুসলিম দেশের উপর যদি শত্রুরা আক্রমণ করে তবে তারা যুদ্ধে লিপ্ত হবে। মুসলমানদের সম্মান রক্ষার্থে তখন সকল মুসলমানের উপর সাধ্যানুযায়ী জেহাদে অংশ গ্রহণ করা ফরজ।
(খ) মুসলমানদের ইমামের আদেশে যুদ্ধঃ

মুসলমানদের ইমাম যখন যুদ্ধের ডাক দিবে তখন তার কথা মেনে জেহাদে বের হওয়া সকলের উপর ওয়াজিব। আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ
يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا مَا لَكُمْ إِذَا قِيلَ لَكُمْ انفِرُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ اثَّاقَلْتُمْ إِلَى الْأَرْضِ أَرَضِيتُمْ بِالْحَيَاةِ الدُّنْيَا مِنْ الْآخِرَةِ فَمَا مَتَاعُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا فِي الْآخِرَةِ إِلَّا قَلِيلٌ

“হে ঈমানদারগণ! তোমাদের কি হল, যখন আল্লাহর পথে বের হওয়ার জন্যে তোমাদের বলা হয়, তখন মাটি জড়িয়ে ধর, তোমরা কি আখেরাতের পরিবর্তে দুনিয়ার জীবনে পরিতুষ্ট হয়ে গেলে? অথচ আখেরাতের তুলনায় দুনিয়ার জীবনের উপকরণ অতি অল্প”। (১০. সূরা তাওবাঃ ৩৮) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ
لَا هِجْرَةَ بَعْدَ الْفَتْحِ وَلَكِنْ جِهَادٌ وَنِيَّةٌ وَإِذَا اسْتُنْفِرْتُمْ فَانْفِرُوا

“মক্কা বিজয়ের পর আর কোন হিজরত নেই। কিন্তু প্রয়োজন অনুসারে জেহাদ অবশিষ্ট রয়েছে। সুতরাং তোমাদেরকে যখন জেহাদের জন্য আহবান করা হবে তখন তোমরা আহবানে সাড়া দাও।

(গ) যুদ্ধের ময়দানে উপস্থিত হওয়ার পর যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়াঃ

তা থেকে পলায়ন করা না জায়েয; বরং তার উপর জেহাদ করা ওয়াজিব। আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ
يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا لَقِيتُمْ الَّذِينَ كَفَرُوا زَحْفًا فَلَا تُوَلُّوهُمْ الْأَدْبَارَ وَمَنْ يُوَلِّهِمْ يَوْمَئِذٍ دُبُرَهُ إِلَّا مُتَحَرِّفًا لِقِتَالٍ أَوْ مُتَحَيِّزًا إِلَى فِئَةٍ فَقَدْ بَاءَ بِغَضَبٍ مِنْ اللَّهِ وَمَأْوَاهُ جَهَنَّمُ وَبِئْسَ الْمَصِيرُ

“হে ঈমানদারগণ! তোমরা যখন কাফেরদের মুখামুখী হবে তখন পশ্চাদপসরণ করবেনা। আর যে লোক সেদিন তাদের থেকে পশ্চাদপসরণ করবে সে আল্লাহর ক্রোধ নিয়ে প্রত্যাবর্তন করবে। আর তার ঠিকানা হল জাহান্নাম”। (৮. সূরা আনফালঃ ১৫-১৬) উপরোক্ত তিন অবস্থায় প্রত্যেক সমর্থবান মুসলমানের উপর জেহাদ করা ফরজ।

২) ফরজে কেফায়াঃ

অমুসলিম দেশের নিষ্ক্রিয় কাফেরদের বিরুদ্ধে জেহাদ পরিচালনা করা ফরজে কেফায়া। মুসলমানদের কিছু লোক এই প্রকারের জেহাদে আঞ্জাম দিলে অন্যরা দায়িত্ব হতে রেহাই পেয়ে যাবে। তবে অন্যদের ক্ষেত্রে জেহাদ সুন্নাত হিসেবে থেকে যাবে।

জিহাদ ফরজ হওয়ার শর্ত কী?

মুসলমানদের নিকট শক্তি থাকলে শির্ক ও মূর্তি পূজার অবসান ঘটিয়ে পৃথিবীতে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্যে আল্লাহ তা’আলা মুসলমানদের উপর জেহাদ ফরজ করেছেন। আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ

وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّى لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ الدِّينُ كُلُّهُ لِلَّهِ

“আর তাদের সাথে যুদ্ধ করতে থাক যতক্ষণ না ফিতনা (কুফর-শির্ক) শেষ হয়ে যায়। এবং আল্লাহর দ্বীন সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর জন্যেই হয়ে যায়। (৮. সূরা আনফালঃ ৩৯) সুতরাং পৃথিবী হতে কুফর ও শির্কের অবসান ঘটিয়ে তাতে আল্লাহর এবাদত প্রতিষ্ঠা করার জন্যে মুসলমানদের উপর জেহাদ করা ফরজ করা হয়েছে। কিন্তু জেহাদ পরিচালনা করার পূর্বে কাফেরদেরকে ইসলামে প্রবেশের দাওয়াত দেয়া জরুরী। তারা যদি ইসলামে প্রবেশ করতে অস্বীকার করে তবে তাদের বিরুদ্ধে জেহাদ করতে হবে।

আমরা কাফের-মুশরেকদের দেশ ও সম্পদ দখল করার জন্যে এবং তাদেরকে হত্যা করার জন্যে জেহাদ করবো না; বরং আমরা তাদের কল্যাণের জন্যে এবং তাদেরকে অন্ধকার থেকে বের করে আলোর পথের দিকে আনার জন্যে জেহাদ ক

কে জিহাদের ডাক দিবে?

প্রশ্ন হলো কে জেহাদের ডাক দিবে এবং জেহাদের নেতৃত্ব দিবে? উত্তর হলো মুসলমানদের ইমামই কেবল জেহাদ পরিচালনা করবেন। ইমামের অনুমতি ব্যতীত জেহাদে অংশ গ্রহণ বৈধ নয়। তবে শত্রুরা যদি মুসলিম দেশ আক্রমণ করে তখন ইমামের অনুমতির প্রয়োজন নেই। সকলেই কাফেরদের আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য প্রতিরোধমূলক জেহাদে লিপ্ত হবে। এই ক্ষেত্রে ইমাম বা নেতার আদেশ বা অনুমতির কোন দরকার নেই।

মোটকথা আল্লাহর রাস্তায় জেহাদ পরিচালনার জন্য আমীর আবশ্যক। আমীরের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাঁরা আল্লাহর পথে জেহাদ করবে। কোন প্রকার দলাদলী ও ফির্কাবন্ধীতে লিপ্ত হবে না। তারা যখন একই ইমামের নের্তৃত্বে একত্রিত হয়ে জেহাদে লিপ্ত হবে তখন তাদের শক্তি ও প্রভাব বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু তারা যদি বিচ্ছিন্ন হয়, দলে দলে বিভক্ত হয় এবং ইমামের অনুগত না থাকে তাহলেই নেমে আসবে তাদের উপর মহা বিপদ। আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ
يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا لَقِيتُمْ فِئَةً فَاثْبُتُوا وَاذْكُرُوا اللَّهَ كَثِيرًا لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلَا تَنَازَعُوا فَتَفْشَلُوا وَتَذْهَبَ رِيحُكُمْ وَاصْبِرُوا إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ

“হে ঈমানদারগণ! তোমরা যখন কোন বাহিনীর সাথে সংঘাতে লিপ্ত হও তখন সুদৃঢ় থাক এবং আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ কর যাতে তোমরা উদ্দেশ্যে কৃতকার্য হতে পার। আর আল্লাহ তা’আলার নির্দেশ মান্য কর এবং তাঁর রাসূলের। তাছাড়া তোমরা পরস্পরে বিবাদে লিপ্ত হইওনা। যদি তা কর, তবে তোমরা ব্যর্থ হয়ে যাবে এবং তোমাদের প্রভাব চলে যাবে। আর তোমরা ধৈর্য ধারণ কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা রয়েছেন ধৈর্যশীলদের সাথে”। (৮. সূরা আনফালঃ ৪৫-৪৬)

উপরোক্ত দলীলগুলোর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে একই ইমামের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ থাকার আদেশ দিয়েছেন। যাতে আমাদের ঐক্য বজায় থাকে। ইমামের আনুগত্য না করে যখন প্রত্যেকেই নিজেকে আমীর ঘোষণা করবে তখন বিশৃংখলা সৃষ্টি হবে। সুতরাং মুসলমানদের জন্য ইমাম ও নেতৃত্ব আবশ্যক। কারণ জিহাদের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইমাম ও শক্তি ব্যতীত জেহাদ পরিচালনা সম্ভব নয়।

আপনারাতো মন করেন যে ইজতেমা দ্বিতীয় হজ্জ:

নাউযুব্বিল্লাহ, আসলে এই কথাটা প্রথম উঠিয়েছে জামাতে ইসলাম, তারা দন্দে লিপ্তহয়ে এই কথাটা প্রথম উঠিয়েছে। আপনি এমন কোন তাবলীগওয়ালাদের পাবেন না যারা ইজতিমাকে দ্বিতীয় হজ্জ মনে করে। একটা প্রশ্ন করি, হজ্জের যায়গার কি অবস্থানগত পরিবর্তন হয়?? অবশ্যই না, কিন্তু ইজতিমার স্থান বিভিন্নসময় পরিবর্তন হয়েছে।

তত্কালীন বৃটিশ-ভারতের রাজধানী দক্ষিণ দিল্লীর এক জনবিরল অঞ্চল 'মেওয়াত'এ 'দাওয়াতে তাবলিগ জামাতে'র গোড়াপত্তনের কয়েক দশক পর, ১৯৪১ খৃস্টাব্দে নিজামুদ্দীন মসজিদের নূহ মাদ্রাসায় প্রথম বড় পরিমণ্ডলে তাবলিগ ইজতেমার সূচনা হয়েছিল। তখনো তাবলিগ জামাতের দাওয়াত পৌঁছেনি এই বঙ্গভাগে। প্রথম যুগে 'শওক' ও 'জযবার' সাথে ফায়দা হাসিলের যে 'মেহনত' চলছিল তা হযরত মাওলানা আবদুল আজিজের (রহ.)মাধ্যমে ১৯৪৪ সালে এসে পৌঁছে বাংলাদেশে । তবে তারও দু'বছর পরে এদেশে 'বিশ্ব ইজতেমা'র ঐতিহাসিক পটভূমি রচিত হয়েছিল কাকরাইল মসজিদে ছোট আয়তনে। অতঃপর এই মারকাজ ছেড়ে ১৯৪৮ সালে চট্টগ্রাম হাজী ক্যাম্পে,১৯৫৮ সালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে, ১৯৬৫ সালে টঙ্গীর পাগারে এবং অবশেষে ১৯৬৬ সালে টঙ্গীর তুরাগ নদীর (কহর দরিয়া) উত্তর-পূর্ব তীর সংলগ্ন ১৬০ একর জায়গার বিশাল খোলা ময়দানে বিশ্ব ইজতেমায়-বিশ্ব তাবলিগের পুনর্জাগরণ ঘটে। ১৯৯৬ সালে তত্কালীন সরকার এ জায়গায় ১৬০ একর জমি স্থায়ীভাবে ইজতেমার জন্য বরাদ্দ দেয় এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন ঘটায়। বর্তমানে টংগিতে এটা অনুষ্ঠিত হয়, আরো দেশের বিভিন্ন যায়গায় অনুষ্ঠিত হয় ।যেমন: যাত্রাবাড়ি, ঢাকা. কালীগঞ্জে,খুলনা সহ আরো অনেক জায়গায়। যদি কেউ মনে করে এটা দ্বিতীয় হ্জ্জ তবে সে ভুলকরবে । বিশ্বের প্রায় ৭০টিরও বেশী দেশ থেকে নানান বয়সী লোক বিশ্ব ইজতিমায় অংশ নিয়ে থাকেন।বিশ্ব বিখ্যাত মুবাল্লিগে ইসলামীরা ইজতিমায় হেদায়তী বয়ান দিয়ে থাকেন। নিজের গরজে দ্বীনের টানে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রায় কোটি তৌহিদী জনতা তুরাগ তীরে এসে বয়ান শুনে। অশান্ত বিশ্বকে শান্ত করতে এবং বিশ্ব মুসলিমের ঐক্যের পতাকাবাহী বিশ্ব ইজতিমা থেকে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষ তাবলীগে সময় দিয়ে দ্বীনের পথে দিক্ষিত হন।

আখিরী মোনাজাত: আর অনেকেই মোনাজাত নিয়ে কথা বলেন, বলেন যে আখিরি বলা যাবে না, ভাই আপনি যখন বাড়ি থেকে বের হন তখন কেন বলেন “আসি”? আপনি কি জানেন যে আপনি আসতে পারবেন কি না? কুরআন খতম করা হয় তার মানে কি আর কুরআন পড়া হয় না?? আসলে ঐ মোনাজাতকে ঐ দিনের শেষ মুনাজাত হিসেবে ধরা হয়। এখানে আমার এই অল্প জ্ঞানে অন্য কিছু মনে হচ্ছে না। আবার অনেকেই বলেন সম্মলিত ভাবে মুনাজাত জায়েজ না, আসলে তাদের কাছে মনে হয় জায়েয বা না জায়েজ অথবা বেদআতের একটি ঝুলি আলি আছে, যেটা তাদের কাছে পছন্দ হয় না সেটাই বেদআত।

০১.“আব্দুল্লাহ ইবনু আমর ইবনু আস রাঃ বলেন, একদা রাসূল সাঃ সূরা ইবরাহীমের ৩৫ নং আয়াত পাঠ করে দু’হাত উঠিয়ে বলেন, আমার উম্মাত, আমার উম্মাত এবং কাঁদতে থাকেন । তখন আল্লাহ তায়ালা বলেন, হে জিবরীল ! তুমি আমার মুহাম্মাদের নিকট যাও এবং জিজ্ঞেস কর, কেন তিনি কাঁদেন । অতঃপর জিবরীল তাঁর নিকটে আগমন করে কাঁদার কারণ জানতে চাইলেন । তখন রাসূল সাঃ তাঁকে বললেন, আল্লাহ তায়ালা তা অবগত । অতঃপর আল্লাহ তায়ালা জিবরীলকে বললেন, যাও, মুহাম্মাদকে বল যে, আমি তার উপর এবং তার উম্মাতের উপর সন্তুষ্ট আছি । আমি তার অকল্যাণ কবর না’ (মুসলিম , ১ম খন্ড , পৃ১১৩ , হা/৩৪৬ ‘ঈমান’ অধ্যায়)”

০২. “আউতাসের যুদ্ধে আবু আমেরকে তীর লাগলে আবু আমের স্বীয় ভাতিজা আবু মুসার মাধ্যমে বলে পাঠান যে, আপনি আমার পক্ষ থেকে রাসূল সাঃ কে সালাম পৌঁছে দিবেন এবং ক্ষমা চাইতে বলবেন । আবু মুসা আশ’আরী রাঃ রাসূলু্ল্লাহ সাঃ এর কাছে এ সংবাদ পৌঁছালে তিনি পানি নিয়ে ডাকলেন এবং ওযু করলেন । এবং হাত তুলে প্রার্থনা করলেন, “হে আল্লাহ ! উবাইদ এবং আবু আমেরকে ক্ষমা করে দাও । (রাবী বলেন) এ সময় আমি তাঁর বগলের শুভ্রতা দেখলাম ।তিনি বললেন, “হে আল্লাহ ! ক্বিয়ামতের দিন তুমি তাকে তোমার সৃষ্টি মানুষের অনেকের উর্ধ্বে করে দিও” ।(বুখারী , ২য় খন্ড , পৃঃ ৯৪৪ , হা/৪৩২৩ ও ৬৩৮৩ ‘দু’আ সমূহ’ অধ্যায় )”

০৩. “ওমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল সাঃ বদরের যু্দ্ধে মুশরিকদের দিকে লক্ষ্য করে দেখলেন , তাদের সংখ্যা এক হাজার । আর তাঁর সাথীদের সংখ্যা মাত্র তিনশত উনিশ জন । তখন তিনি ক্বিবলামুখী হয়ে দু’হাত উঠিয়ে দু’আ করতে লাগলেন । এ সময় তিনি বলছিলেন , ‘হে আল্লাহ ! তুমি আমাকে সাহায্য করার ওয়াদা করেছ । হে আল্লাহ ! তুমি যদি এই জামাআতকে আজ ধ্বংস করে দাও, তাহলে এই জমীনে তোমাকে ডাকার মত আর কেউ অবশিষ্ট থাকবে না । এভাবে তিনি উভয় হাত তুলে ক্বিবলা মুখী হয়ে প্রার্থনা করতে থাকলেন । এ সময় তাঁর কাঁধ হতে চাদরখানা পড়ে গেল । আবু বকর (রাঃ) তখন চাদরখানা কাঁধে তুলে দিয়ে রাসূল সাঃ কে জড়িয়ে ধরে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! (সাঃ) আপনার প্রতিপালক প্রার্থনা কবুলে যথেষ্ট । নিশ্চয়ই তিনি আপনার সাথে কৃত ওয়াদা পূরণ করবেন । (মুসলিম, ২য় খন্ড, পৃঃ ৯৩, হা/১৭৬৩, ‘জিহাদ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ – ১৮ )”

০৪. “আবু হুরায়রা রাঃ বলেন, একদা আবু তুফাইল রাসূল সাঃ এর কাছে গিয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল ! দাউস গোত্রও অবাধ্য ও অবশীভূত হয়ে গেছে, আপনি তাদের জন্য আল্লাহর কাছে বদ দুআ করুন । তখন রাসূল সাঃ ক্বিবলামুখী হলেন এবং দুহাত তুলে বললেন, হে আল্লাহ ! তুমি দাঊস গোত্রকে হেদায়াত দান কর এবং তাদেরকে সঠিক পথে নিয়ে আস। (বুখারী , মুসলিম , ছহীহ আল আদাবুল মুফরাদ , পৃঃ ২০৯ , হা/৬১১ সনদ সহীহ)”

তবে ফরজ নামাযের পরে সম্মলিতভাবে দুয়া করা বেদআত; এ ব্যাপারে বর্তমান বিশ্বের কিছু আলেমে দ্বীনের কথা শুনলেই বুঝতে পারবো।

০১. আহমাদ ইবনু তাইমিয়াহ (রাঃ) কে ফরয সালাতের পর ইমাম মুক্তাদি সম্মিলিতভাবে দু’আ করা জায়েয কি-না জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, “সালাতের পর ইমাম মুক্তাদি সম্মিলিতভাবে দুআ করা বিদ’আত । রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর যুগে এরুপ দু’আ ছিল না । বরং তার দু’আ ছিল সালাতের মধ্যে । কারণ সালাতের মধ্যে মুসল্লি স্বীয় প্রতিপালকের সাথে নীরবে কথা বলে আর নীরবে কথা বলার সময় দুআ করা যথাযথ” । ( মাজমুআ ফাতাওয়া , ২২/ ৫১৯পৃঃ)

০২. শায়খ আব্দুল্লাহ বিন বায (রাহঃ) বলেন , “পাঁচ ওয়াক্ত ফরয সালাত ও নফল সালাতের পর দলবদ্ধভাবে দু’আ করা স্পষ্ট বিদ’আত । কারণ এরুপ দু’আ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর যুগে এবং তাঁর সাহাবীদের যুগে ছিল না । যে ব্যক্তি ফরয সালাতের পর অথবা নফল সালাতের পর দলবদ্ধভাবে দু’আ করে সে যেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আতের বিরোধীতা করে ।” (হাইয়াতু কেবারিল ওলামা ১/২৪৪পৃঃ)

০৩. “বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দীস আল্লামা শায়খ নাসিরউদ্দীন আলবানী (রহঃ) বলেন , “দু’আয়ে কুনুতে হাত তুলার পর মুখে হাত মুছা বিদ’আত । সালাতের পরেও ঠিক নয় । এ সম্পর্কে যত হাদীস রয়েছে , এর সবগুলিই যঈফ । এজন্য ইমাম আযউদ্দীন বলেন , সালাতের পর হাত তুলে দু’আ করা মুর্খদের কাজ । (সিফাতু সালাতিন নাবী (সাঃ) পৃঃ ১৪১)”

০৪. “শায়খ উছায়মিন (রহঃ) বলেন , সালাতের পর দলবদ্ধভাবে দু’আ করা বিদ’আত । যার প্রমাণ রাসূল (সাঃ) ও তাঁর সাহাবীগণ থেকে নেই । মুসল্লিদের জন্য বিধান হচ্ছে প্রত্যেক মানুষ ব্যক্তিগতভাবে যিকির করবে । (ফাতাওয়া উছায়মিন , পৃঃ ১২০)”

ভাই ফাজায়েল আমলের কথা কি বলবেন?

ভাই আমি এইখানে বষ্যতা স্বীকার করছি এই কিতাবের জঈফ আর জ্বাল হাদিস আর কিচ্ছা কাহিনির ব্যাপারে। তবে এখানে আমি বলতে চাই যে এই কিতাবটি তাবলীগ জামাতের রেজিস্ট্রেড কিতাব নয় যে এইটাই পড়তে হবে। যেখানে দলের রেজিস্ট্রেশন নেই সেখানে এই কিতাব কি ভাবে নির্দিষ্ট হয়। আমি দাওয়াতী ভাই দের বলবো যে আপনারা মুন্নখাব হাদিস, হেকেয়েতে সাহাবা পড়েন যেখানে সহীহ হাদিস রেফারেন্স সহ দেয়া আছে। এখন প্রশ্ন হতে পারে ভাই আপনারা কেন একটি কিতাবকে নির্দিস্ট করে দিচ্ছেন। উত্তরে আমি বলবো অল্পসময়ে ফাজায়েল খোজার ব্যাপারে আপনি মূল কিতাবে হাদিস খুজবেন নাকি আপনার সংগ্রহে থাকা সহীহ হাদিস গুলো দেখবেন?? কোনো একটি আয়াত বালতে গেলে কি আপনি পুরো কুরআন পড়েন নাকি ঐ নির্দিস্ট আয়াত পড়েন??? আর এই অল্প সময় জামায়েতের মধ্যে শিক্ষা দেয়া হয় নামাজ, কুরআন, হাদিস, আমলের ফজিলত। তাই মূল গ্রন্থ পড়া হয়না তবে পড়তে কেহই নিষেধ করেন নি। আর হাদিস গুলো সংগ্রহ করা সহীহ গ্রন্হ থেকে। তাতে কোনো সমস্যা নেই। আপনাদের কাছে একটি প্রশ্ন, যখন আপনারা ফেসবুকে দাওয়াত দেন তখন সেটি কি ঠিক হয়? কারণ ফেসবুকে তো অনেক পর্ন পেজ আছে। এখেত্রে আপনার যে উত্তরটি দিবেন সেটি নিশ্চয় এইটি হবে যে, আমরা পর্ন পেজগুলো ব্যাবহার করি না শুধু ইসলামিক পেজগুলো ব্যাবহার করি। এখন যদি কেউ ফাজায়েলে আমালের সহীহ হাদিস আর কুরআনের আয়াতগুলো পড়েন তবে কি কোনো সমস্যা হওয়ার কথা??? উত্তরটা নিজেকেই দিবেন আশাকরি।।

তাহলে আপনারা ১০টি সূরাকে বেছে নিয়েছেন কেন শিক্ষা করানোর ব্যাপারে?

ভাই অনেক মুসলমান আছে যারা সূরা ফাতিহা শুদ্ধ করে পড়তে পারে না তারা কি করে অন্যান্য সূরাগুলো মুখস্ত বা সহীহ করে পড়বে?? যে পাড়বে সে বেশি পড়বে, ৩ দিনের মধ্যে কুরআনের ১১৪টি সূরা পড়ে ফেললেও কোনো সমস্যা নেই। মূলতো এই শিক্ষা করার বা করানোর দায়িত্ব আমাদের সবার, কারন নামাজ ভংগের একটি কারণের মধ্যে একটি কারণ কুরআন অশুদ্ধ পড়া। কেউ যদি ৪টি সূরা সহীহ করতে পাড়েতে পারে বা ঐ সূরা দিয়ে যদি সালাহ শুদ্ধ ভাবে আদায় করতে পারে তবে কতইনা মঙ্গল যে শিখলো বা যে শিখালো তার জন্য। তাই ১০টি সূরা নির্দিস্ট করা একটি ভুল ধারনা, আর করলেও সমস্যা নেই।

আর তাবলীগের শিক্ষা দেয়া কি ঠিক হবে কিনা এই সম্পর্কে একটু নিচে খেয়াল করুন: আল্লাহ পাক বলেন,

০১. ‘তাদের প্রত্যেক দলের একটি অংশ কেন বের হ’ল না, যাতে দ্বীনের জ্ঞান লাভ করে এবং সংবাদ দান করে স্বজাতিকে, যখন তারা তাদের কাছে প্রত্যাবর্তন করবে, যেন তারা বাঁচতে পারে?’(৯. সূরা তওবা: ১২২)

০২. আর ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারী একে অপরের সহায়ক। তারা ভাল কথার শিক্ষা দেয় এবং মন্দ থেকে বিরত রাখে। নামায প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত দেয় এবং আল্লাহ ও তাঁর রসূলের নির্দেশ অনুযায়ী জীবন যাপন করে। এদেরই উপর আল্লাহ তা'আলা দয়া করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশীল, সুকৌশলী। (৯. সূরা তওবা: ৭১]

০৩. ‘পড় তোমার প্রভুর নামে, যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। পড় এবং তোমার প্রতিপালক মহা সম্মানিত। যিনি কলমের মাধ্যমে শিক্ষা দিয়েছেন। যিনি মানুষকে শিক্ষা দিয়েছেন, যা সে জানত না’ (৯৬.আলাক্ব ১-৫)

০৪. “যে জ্ঞানের অন্বেষণে কোন পথ চলে আল্লাহ তাকে জান্নাতের পথগুলোর একটি পথে পরিচালিত করেন [অথবা, আল্লাহ তার এই জ্ঞানের দ্বারা তার জন্য জান্নাতের একটি পথকে সহজ করে দেন], আর নিশ্চয়ই ফেরেশতাগণ জ্ঞান অন্বেষণকারীর প্রতি সন্তুষ্টির কারণে তাঁদের ডানাগুলো অবনমিত করে দেন, আর নিশ্চয়ই আলেমের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে আসমানসমূহে অবস্থানকারীরা, যমীনে অবস্থানকারীরা এবং পানির অন্তস্থিত মাছেরা এবং নিশ্চয়ই [সাধারণ] ইবাদতকারীর তুলনায় আলেমের মর্যাদা সকল তারার তুলনায় পূর্ণিমার রাত্রিতে পূর্ণচন্দ্রের শ্রেষ্ঠত্বের ন্যায়, আর নিশ্চয়ই আলেমগণ নবীদের উত্তরাধিকারী, এবং নিশ্চয়ই নবীগণ দীনার কিংবা দিরহামের উত্তরাধিকার দিয়ে যাননি, বরং জ্ঞানের উত্তরাধিকার দিয়ে গিয়েছেন, অতএব যে তা গ্রহণ করল, সে এক বিরাট সৌভাগ্যের অধিকারী হল।”[আহমদ, আবু দাউদ, তিরমিযী এবং অন্যান্য]

০৫. এক ব্যক্তি আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারাক (রঃ) কে জিজ্ঞেস করলোঃ হে আবু আব্দুর রহমান, কোনটাকে আমি সারাদিনে বেশী প্রাধান্য দিবোঃ আল-কোরআন শিক্ষা না ইলম শিক্ষা? তিনি বললেনঃ তুমি কি এমন পরিমাণ আল-কোরআন শিখেছো যা দিয়ে তুমি সুন্দরভাবে সালাত কায়েম করতে পারো। সে বললোঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ তাহলে তোমার জন্য ইলম। (ইবনে মুফলিহ রচিত“আল আদাব আশ শারীয়াহ” ২/৩৩-৩৪)

০৬. ইবনে রজব (রঃ) বলেছেনঃ নিশ্চয়ই প্রত্যকে মুসলিমের উপর দ্বীনের ঐ সকল ব্যাপারে জ্ঞান অর্জন ফরজ – যেগুলি তার প্রয়োজন। যেমনঃ পবিত্রতা, সালাত,সিয়াম। আর যার সম্পদ আছে তার জন্য ঐ জ্ঞান অর্জন ফরজ যা ঐ সম্পদের কারণে তার উপর দায়িত্ব বর্তায় যেমনঃ যাকাত,সদকা, হাজ্জ্ব এবং জিহাদ। এ কারণে যারা বেচা-কেনা করেন, তাদের জন্য ক্রয়-বিক্রয়ে হালাল-হারাম শিক্ষা করা ফরজ। (দেখুনঃ মাজমু আর-রাসাইল, অধ্যায়ঃ ‘ওয়ারাসাতুল আম্বিয়া, শারহু হাদিস আবি দারদা’, পৃঃ ২২-২৩)

০৭. আবু হুরাইরা (রা:) হতে বর্নিত, নবী (স:) বলেছেন: উত্তম সদকা হলো একজন মুসলমান ইলম শিক্ষা করে এবং তার মুসলমান ভাইকে শিক্ষা দেয়। (ইবনে মাজাহ: ২৪৩, ই: ফা:)

ভাই যারা ইসলামী জ্ঞান অর্জন করতে পারেন নাই তাদের জন্য একটি বড় সুজগ হলো এই দাওয়াতের কাজ। চিন্তা করুন যে ব্যাক্তি সারা জীবন সালাহ আদায় করেনি তার অবস্থা কি হবে? তাকে দাওয়াত দেয়ার দায়ীত্ব কি আপনার নয়?

আল্লাহপাক বলেন: এটি একটি গ্রন্থ, যা আপনার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে, যাতে করে আপনি এর মাধ্যমে ভীতি-প্রদর্শন করেন। অতএব, এটি পৌছে দিতে আপনার মনে কোনরূপ সংকীর্ণতা থাকা উচিত নয়। আর এটিই বিশ্বাসীদের জন্যে উপদেশ। (৭.সুরা আরাফ: ২)

ছয় উছুল সম্পর্কে কি বলবেন? এটাতো তাদের নতুন সৃস্টি:

একটু দেখেন, ছয় নম্বর হল ছয়টা নিয়ম বা ছয়টা কাজ যেটা আখলাক শিখায়। যেমন:
১. কলেমা নিজের মধ্যে আনা অন্যের কাছে পৌছেদেয়া,
২. নামাজ নিজের পড়া অন্যেকে পড়ানোর জন্য চেষ্টা করানো,
৩. ইলম অন্যেষ্বন করা আর জিকিরের জন্য দিনকের অবসর সময়কে বেছে নেয়া,
৪. মানুষকে সাহায্য করা,
৫. ভাল কাজের জন্য নিয়তকে শুদ্ধ করা

৬. নিজের ঈমান, ইয়াকীন ও আমাল সহীহ হয়ে যায় এবং সকল উম্মতের ঈমান, ইয়াকীন ও আমাল সহীহ হয়ে যায়, এই উদ্দেশ্যে রসুলুল্লহ (স:)-এর মেহনতের কাজ জিন্দা করা। প্রশ্ন করি, এর মধ্যে আপনি কোনটা মানকে রাজি না? ছয় উছুল কি না জায়েজ? নাকি হাদিস থেকে নেয়া? এর প্রতিটির ফাজায়েল সম্পর্কে আলোচনা করলে প্রবন্দ্ধটি আরো বড় হয়ে যাবে। এটা কখনোই ইসলামের স্তম্ভের বিপরীতে যায় না। বরং ইসলামের ৫টি স্তম্ভকে সুন্দর ভাবে পালন করতে সাহায্য করে। আশা করি ভুল ভেঙ্গেছে এই ৬ উসুল সম্পর্কে।

স্বপ্ন সম্পর্কে কি বলবেন: স্বপ্নের ব্যাপারে নিজের মতামত দেয়ার আগে একটু কুরআন আর হাদিসের দিকে খেয়াল করি।

০১. স্বপ্ন ও তার ব্যাখ্যা বিশেষজ্ঞ ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে সীরিন রহ. বলেছেন :الرؤيا ثلاث : حديث النفس ، وتخويف الشيطان ، وبشرى من الله .(رواه البخاري في التعبير) -স্বপ্ন তিন ধরনের হয়ে থাকে। মনের কল্পনা ও অভিজ্ঞতা। শয়তানের ভয় প্রদর্শন ও কুমন্ত্রণা ও আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে সুসংবাদ। (বর্ণনায় : বুখারী)

০২. হাদীসে এসেছে: عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "لم يبق من النبوة إلا المبشرات" قالوا: وما المبشرات؟ قال: "الرؤيا الصالحة"

( رواه البخاري كتاب التعبير (باب المبشرات)-

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, নবুওয়তে আর কিছু অবশিষ্ট নেই, বাকী আছে কেবল মুবাশশিরাত (সুসংবাদ)। সাহাবীগণ প্রশ্ন করলেন, মুবাশশিরাত কী? তিনি বললেন: ভাল স্বপ্ন। (বর্ণনায় : সহীহ বুখারী)

০৩. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, দিন যত যেতে থাকবে, কিয়ামত নিকটে হবে, মুমিনদের স্বপ্নগুলো তত মিথ্যা হতে দূরে থাকবে। ঈমানদারের স্বপ্ন হল নবুওয়তের ছিচল্লিশ ভাগের একভাগ। (বর্ণনায় : বুখারী ও মুসলিম)

০৪. আবু কাতাদাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ভাল ও সুন্দর স্বপ্ন আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে হয়ে থাকে আর খারাপ স্বপ্ন শয়তানের পক্ষ থেকে। যদি কেউ ভাল স্বপ্ন দেখে তাহলে তা শুধু তাকেই বলবে যে তাকে ভালোবাসে। অন্য কাউকে বলবে না। আর যদি স্বপ্নে খারাপ কিছু দেখে তাহলে শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করবে। ( বলবে, আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম) এবং বাম দিকে তিনবার থুথু নিক্ষেপ করবে। আর কারো কাছে স্বপ্নের কথা বলবে না। মনে রাখবে এ স্বপ্ন তার ক্ষতি করতে পারবে না। (বর্ণনায় : বুখারী ও মুসলিম)

০৫. দেখুন ইউসুফ আলাইহিস সালাম স্বপ্ন দেখেছিলেন: যখন ইউসুফ তার পিতাকে বলল, হে আমার পিতা, আমি দেখেছি এগারটি নক্ষত্র, সূর্য ও চাঁদকে, আমি দেখেছি তাদেরকে আমার প্রতি সিজদাবনত অবস্থায়।’ সে বলল, হে আমার পুত্র, তুমি তোমার ভাইদের নিকট তোমার স্বপ্নের বর্ণনা দিও না, তাহলে তারা তোমার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র করবে। নিশ্চয় শয়তান মানুষের প্রকাশ্য দুশমন।’(১২.সূরা ইউসুফ, আয়াত ৪-৫)

০৬. আল্লাহ পাক বলেন: যখন আল্লাহ তোমাকে স্বপ্নের মধ্যে তাদেরকে স্বল্প সংখ্যায় দেখিয়েছিলেন। আর তোমাকে যদি তিনি তাদেরকে বেশি সংখ্যায় দেখাতেন, তাহলে অবশ্যই তোমরা সাহসহারা হয়ে পড়তে এবং বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক করতে। কিন্তু আল্লাহ নিরাপত্তা দিয়েছেন। নিশ্চয় অন্তরে যা আছে তিনি সে সব বিষয়ে অবগত। (৮.সূরা আনফাল : ৪৩)

০৭. আল্লাহ পাক আরোবলেন : অবশ্যই আল্লাহ তাঁর রাসূলকে স্বপ্নটি যথাযথভাবে সত্যে পরিণত করে দিয়েছেন। তোমরা ইনশাআল্লাহ নিরাপদে তোমাদের মাথা মুণ্ডন করে এবং চুল ছেঁটে নির্ভয়ে মসজিদুল হারামে অবশ্যই প্রবেশ করবে। অতঃপর আল্লাহ জেনেছেন যা তোমরা জানতে না। সুতরাং এ ছাড়াও তিনি দিলেন এক নিকটবর্তী বিজয়। (৪৮.সূরা ফাতাহ : ২৭)

০৮. হে আমার রব, আপনি আমাকে রাজত্ব দান করেছেন এবং স্বপ্নের ব্যাখ্যা শিখিয়েছেন। হে আসমানসমূহ ও যমীনের স্রষ্টা! দুনিয়া ও আখিরাতে আপনিই আমার অভিভাবক, আমাকে মুসলিম অবস্থায় মৃত্যু দিন এবং নেককারদের সাথে আমাকে যুক্ত করুন (১২.সূরা ইউসুফ : ১০১)

তাহলে বুঝাগেল যে স্বপ্ন দেখা দোষের কিছু নয়। তবে আমি দাওয়াতী ভাইদের অনুরোধ করবো যে তারা যেন স্বপ্নের ব্যাপারে জোর না দেয় কারণ স্বপ্নের ব্যাপারে রেফারেন্স দেয়া যায় না। তাই ঐ ব্যাপারগুলো হয়েছিল বা হয়নি তা বলা ১০০% সম্ভব নয়। যদি হয়ে থাকে তবে তাদের ব্যাপারে আপনি সত্য বলছেন আর যদি না হয়ে থাকে তবে আপনি তাদের ব্যপারে মিথ্যা বলছেন। তাই এই ব্যাপারগুলোতে আমাদের চুপ থাকাই কাম্য। এগুলো হতেও পারে আবার নাও হতে পারে। তাই অনিশ্চিত কোনো ব্যাপার দলীল হিসেবে ব্যাবহার করা যায় না।

এরা কুরআন আর সহীহ হাদিস পড়ে না: পৃথীবিতে ডাহা মিথ্যাকথার মধ্যে এটা একটা মিথ্যা কথা। যারা আল্লাহর পথে মানুষকে ডাকে তারা কুরআন পড়ে না? এইটাকি বিশ্বাস যোগ্য??মাছ কি পানি ছাড়া থাকতে পারে???মূলত বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষকরা জামায়াতে তাবলীগের আমির হয়ে থাকে আবার সাধারণ বিজ্ঞ ব্যক্তিরাও হতে পারে। তবে যদি তাদের বিরুদ্ধে এরকম একটা অভিযোগ করি যে তারা কুরআন হাদিস না পড়ে তাহলে এই কথাটা অবান্তর হয়ে যায়। হতে পারে যারা কম শিক্ষিত তারা পড়ে না, তাই বলে আপনি সবাইকে বলতে পারেন না। যারা সূরা ফাতেহা ঠিক মত পড়তে পারেনা তারা পবিত্র কুরআন শরীফের অন্যান্য সূরাগুলো কি ভাবে পড়বে? হাদিসের কথা না হয় উল্লেখ নাই করলাম।


কোথায় এবং কিভাবে দাওয়াত দিবেন: একজন দায়ী হিসেবে আপনি ২৪ ঘন্টা দাওয়াত দিতে পারেন। আপনি সামাজিক গনমাধ্যেমের মাধ্যমে দাওয়াত দিতে পারেন, যেমন: ফেসবুক, টুইটার, বল্গ ইত্যাদির মাধ্যমে দাওয়াত দিতে পারেন। আবার ওয়াজ-নসিহাতের মাধ্যেও মানুষের কাছে দাওয়াত পৌছাতে পারেন, তবে মনে রাখতে হবে নবী(স:) মানুষের দ্বারে-দ্বারে গিয়ে তাওহিদের দাওয়াত দিয়েছেন। এই জন্য আমাদের প্রধান কাজ হবে নবী(স:) এর দেখানো পথে দাওয়াত দেয়া। ফেসবুক, টুইটার, বল্গ, ওয়াজ একটি দাওয়াতের মাধ্যম হতে পারে কিন্তু অন্যতম মাধ্যম হিসেবে নিলে চলবেনা। তাহলে আমারদের নবী ওয়ালা কাজ স্থির থেকে যাবে। ডা: নায়েক, মতিউর রহমান মাদানী, ড. ইবরাহীম, ডা:খন্দোকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গিরসহ আরো অনেক আছেন যারা গনমাধ্যমে দাওয়াত দিয়ে থাকেন। তাদের উদ্দেশ্য হলো একই সময়ে কমপক্ষে ২ কোটি মানুষের কাছে এই দাওয়াত পৌছানো। আবার মাওলানা তারেক জামিল, জুনায়েদ জামশেদ, মাওলানা সা’দ, মাওলানা জুবাইর, মাওলানা জামিল উদ্দিন, মাওলানা যুনায়েদ বাবুনগরীসহ আরো অনেকেই মানুষের দ্বারে-দ্বারে গিয়ে দাওয়াত পৌছে থাকেন। তাই সবাইকেই আল্লাহপাক কবুল করুন। সবাই ইসলামের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন। আপনারাও তাই করতে পারেন তবে ভুলেগেলে চলবে না যে মানুষের দরজায় গিয়ে দাওয়াত দিতে হবে। কারণ এটা মূল, আর নবী (স:) বলেছেন, প্রত্যেক জিনিষ তার মূলের দিকে ধাবিত হয়। আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

দায়ী ভাইদের উদ্দশ্যে আমার কিছু একান্ত অনুরোধ

আগে তাওহিদের দাওয়াত দিন: আল্লাহ পাক পবিত্র কুরআনে অনেকবার বলেছেন তার দিকে আহব্বান জানাতে। ইরশাদ হচ্ছে “বল আল্লাহ এক” অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, তোমাদের কি হল যে, তোমরা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করছ না, অথচ রসূল তোমাদেরকে তোমাদের পালনকর্তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করার দাওয়াত দিচ্ছেন? আল্লাহ তো পূর্বেই তোমাদের অঙ্গীকার নিয়েছেন-যদি তোমরা বিশ্বাসী হও। (৫৭.সুরা হাদীদ: ৮)

তাই আমাদের আগে আল্লাহর একাত্ববাদের দাওয়াত দিতে হবে, কেননা ইমান আনা ফরজ তার পর অন্যান্য বিষয়। যদি অন্যান্য বিষকে আগে দাওয়াত দেই তাহলে সেই দাওয়াত বেকার।

নিজে আমল করুন তার পর অন্যদের দাওয়াত দিন: প্রথমে নিজে আমল করতে হবে তার পর অন্যকে দাওয়াত দিতে হবে, আবার যদি আপনার সামর্থ না থাকে হজ্জে যাওয়ার তবে আপনি হজ্জে যাওযার জন্য মানুষকে নসিহাত করতে পারেন, তবে আপনার হজ্জ করার ইচ্ছা থাকতে হবে এবং নিয়ত করতে হবে: নিজে আমল করার ব্যাপরে আল্লাহ পাক বলেন:

১. 'তোমরা কি মানুষকে ভাল কাজের আদেশ করো এবং নিজেদের (জীবনে তা বাস্তবায়নের) কথা ভুলে যাও, অথচ তোমরা সবাই মহান আল্লাহ্‌ তায়ালার কিতাব পড়ো; কিন্তূ (কিতাবের এ কথাটি) তোমরা কি বুঝো না? (২.সূরা বাকারা, আয়াত নং- ৪৪)

২. হে ঈমানদারগণ! তোমরা এমন কথা কেন বল, যা তোমরা বাস্তবে করো না। তোমরা যা করো না, তা বলা মহান আল্লাহ্‌ তায়ালার কাছে অতিশয় অপছন্দনীয়।'' (৬১. সূরা সফ, আয়াত নং: ২-৩)

কোনো হাদিস বা কুরআনের আয়াত বলতে গেলে রেফারেন্স দিন: কোনো হাদিস বা কুরআনের আয়াত বলতে গেলে সচেতননাতের সাথে প্রচার করুন আর কেচ্ছা কাহিনি বলার ক্ষেত্র সচেতন হউন, যদি রেফারেন্স দিতে পারেন তবে বলা উচিত অন্যথায় নয়। আল্লাহ পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করেন:

০১. আমি তাদের কাছে গ্রন্থ পৌছিয়েছি, যা আমি স্বীয় জ্ঞানে বিস্তারিত বর্ণনা করেছি, যা পথপ্রদর্শক এবং মুমিনদের জন্যে রহমত। (৭.সুরা আরাফ: ৫২)

০২. “(হে নবী, এদের) আপনি বলে দিন, এ হচ্ছে আমার পথ; আমি মানুষদের আল্লাহর দিকে আহবান করি; আমি ও আমার অনুসারীরা পূর্ণাংগ সচেতনতার সাথেই আহবান জানাই; আল্লাহ তায়ালা মহান, পবিত্র এবং আমি কখনো মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই”। (২২.সূরা ইউসুফ ১০৮)

০৩. "যে ব্যক্তি জানে যে, যা কিছু পালনকর্তার পক্ষ থেকে আপনার প্রতি অবর্তীর্ণ হয়েছে, তা সত্য; সে কি ঐ ব্যক্তির সমান, যে অন্ধ? তারাই বোঝে, যারা বোধশক্তি সম্পন্ন। " (১৩.সূরা আর'রাদ-১৯)

০৪. “তার চেয়ে বেশি বিভ্রান্ত আর কে হতে পারে, যে আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে হিদায়াত ব্যতিরেকে নিজের প্রবৃত্তির ভালোলাগা মন্দলাগার অনুসরণ করে? নিশচয় আল্লাহ্‌ অত্যাচারী সম্প্রদায়কে হিদায়াত প্রদান করেন না।”(২৮. আল-ক্বাসাস, আয়াত ৫০)

০৫. আর যদি আপনি পৃথিবীর অধিকাংশ লোকের কথা মেনে নেন, তবে তারা আপনাকে আল্লাহর পথ থেকে বিপথগামী করে দেবে। তারা শুধু অলীক কল্পনার অনুসরণ করে এবং সম্পূর্ণ অনুমান ভিত্তিক কথাবার্তা বলে থাকে। (৩. সুরা আন’য়াম: ১১৬)

কোনো দায়ীকে ছোটো করে দেখেবো না: হুজুরপাক (স:) ছাড়া বাকী সব মানুষের মধ্যেই কিছু না কিছু ভুল আছে তাই মানুষ ভুল করতে পারে। যারা দ্বীনের দাওয়াত দিয়ে থাকেন তারাও ভুল করতে পারেন, তাই আমরা কোনো দায়ীকে ছোট করে দেখবোনা। আপনি যখনি কারো সমালোচনা করবেন তখন তার ভক্তরা সমালোচনা শুরু করবে আপনি যাকে পছন্দ করেনা তাকে। তাই নিযেদের মধ্যে তর্ক বা সমালোচনা না করাই উত্তম। যখন আপনি ডা: নায়েকে নিয়ে সমালোচনা করবেন তখন দেখবেন অন্যরাও মাওলানা তারেক জামিল কে নিয়ে সমালোচনা করবে। কিন্তু তারা সবাই আল্লাহর কাছে প্রিয় বান্দা। কারণ তারা আল্লাহর একাত্ববাদের প্রচার করছে। অন্ততপক্ষে একবার চিন্তা করুন আপনিকি কারো দ্বারা প্ররচিত হচ্ছেন, নাকি নিজর বুদ্ধি দ্বারা তাকে সমালোচনা করছেন?? আপনি কি নিজ চোখে দেখেছেন ঐ ব্যাপারটি সম্পর্কে যেটার ব্যপারে আপনি দায়ী ভাইকে তিরস্বার করছেন?? যাকে তিরস্কার করছেন তার হাতে কি কেউ ইসলাম গ্রহণ করেন নি বা কোন মুসলমান ইসলামের পথে আসেন নি??? যদি উপরের কথা গুলো ওকটু বিবেচনা করেন তবে আমার উদ্দেশ্যটা আপনি বুঝতে পারবেন। তাই আমরা দ্বীনের দায়ীদের সমালোচনা করবো না।

আল্লাহ পক বলেন, ০১. “মুমিনগণ, কেউ যেন অপর কাউকে উপহাস না করে। কেননা, সে উপহাসকারী অপেক্ষা উত্তম হতে পারে এবং কোন নারী অপর নারীকেও যেন উপহাস না করে। কেননা, সে উপহাসকারিণী অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ হতে পারে। তোমরা একে অপরের প্রতি দোষারোপ করো না এবং একে অপরকে মন্দ নামে ডেকো না। কেউ বিশ্বাস স্থাপন করলে তাদের মন্দ নামে ডাকা গোনাহ। যারা এহেন কাজ থেকে তওবা না করে তারাই যালেম।(৪৯,সূরা হুজরাত: ১১)”


আল্লহ পাক বলেন, ০২. যে লোক সৎকাজের জন্য কোন সুপারিশ করবে, তা থেকে সেও একটি অংশ পাবে। আর যে লোক সুপারিশ করবে মন্দ কাজের জন্যে সে তার বোঝারও একটি অংশ পাবে। বস্তুতঃ আল্লাহ সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাশীল।(৪. সূরা নিসা :৮৫)

০৩. কানাঘুষা একটা শয়তানী কাজ এবং ঈমানদার লোকদের মনে কষ্ট দেয়ার উদ্দেশ্যেই তা করা হয়। অবশ্য আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া তারা তাদের কোন ক্ষতি করতে সক্ষম নয়। আর মু’মিনদের কর্তব্য হচ্ছে শুধুমাত্র আল্লাহর ওপর ভরসা করা। (৫৮. আল মুজাদালাহ : ১০)


হাদিসের মধ্যে এসেছে, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ “মু’মিন ব্যক্তি কখনো ঠাট্টা-বিদ্রুপকারী, অভিশাপকারী, অশ্লীলভাষী ও অসদচারী হতে পারে না।” [তিরমিযি]

এমনকি কোনো ইসলামী রাজনৈতিক দলকে নিয়েও সমালোচনা করবো না। আল্লাহ পাক বলেন, মুমিনগণ, তোমরা অনেক ধারণা থেকে বেঁচে থাক। নিশ্চয় কতক ধারণা গোনাহ। এবং গোপনীয় বিষয় সন্ধান করো না। তোমাদের কেউ যেন কারও পশ্চাতে নিন্দা না করে। তোমাদের কেউ কি তারা মৃত ভ্রাতার মাংস ভক্ষণ করা পছন্দ করবে? বস্তুতঃ তোমরা তো একে ঘৃণাই কর। আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু। যালেম।(৪৯,সূরা হুজরাত: ১২)

এই ব্যাপারে আবুল আলা মওদুদীর অমীয় বানীটি স্মরন রাখা দরকারঃ "ইসলাম হল একটি বাগানের মত, আর ইসলামী সংগঠনগুলো হল সেই বাগানের একাধিক মালী। যাদেরকেউ সার দিচ্ছে, কেউ পানি দিচ্ছে, কেউ নিড়ানি দিচ্ছে, কেউ গাছ লাগাচ্ছে"।

তর্ক করুন কুরআন আর সহিহ হাদিস দিয়ে: আল্লহ পাক বলেন “আপন পালনকর্তার পথের প্রতি আহবান করুন জ্ঞানের কথা বুঝিয়ে ও উপদেশ শুনিয়ে উত্তমরূপে এবং তাদের সাথে বিতর্ক করুন সুন্দর এবং উপযুক্ত পন্থায়। নিশ্চয় আপনার পালনকর্তাই ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে বিশেষ ভাবে জ্ঞাত রয়েছেন, যে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়েছে এবং তিনিই ভাল জানেন তাদেরকে, যারা সঠিক পথে আছে। (১৬.সুরা নাহল: ১২৫) তাই তর্ক করার ক্ষেত্রে কুরআন আর সহীহ হাদিস এর রেফারেন্স দিয়ে তর্ক করুন।

আর জ্বাল আর জঈফ হাদিসের ক্ষেত্র সাবধান হওয়া প্রয়োজন, কারন এ নিয়ে দন্দ রয়েছে যে জয়ীফ হাদিসে আমল কারা যাবে কি না বা দলীলের ক্ষেত্রে ব্যাবহার করা যাবে কি না। তাই আমরা সর্বাবস্খায় জ্বাল আর জয়ীফ হাদিস বলা থেকে বিরত থাকবো এমনি আমলের ক্ষেত্রেও। সহীহ হাদিসের ফাজায়েলের উপর আমল করলে আপনি সারা দিলে আর কোনো কাজ করার সময় পাবেন না, তাহলে আপনার জঈফ আর জ্বাল হাদিসের কাছে যাওয়ার কি দরকার।

অনেকেই বলথাকে আপনার যয়ীফ হাদিস দিয়ে মানুষদের কে ডাকেন, যয়ীফ হাদিস প্রচার করেথাকেন, তাদের ব্যাপারে ডা: খন্দোকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গিরের একটি উক্তি তুলো ধরলাম “আমাকে একজন বললেন, "অমুকেরা যয়ীফ বা জাল হাদীস দিয়ে মানষদের আল্লাহর পথে ডাকেন। কত বলি যে, আপনারা সহীহ হাদীস পড়ুন কিতাব পড়ুন, কিন্তু তারা শুনেন না।" আমি বললম, "তারা তো যয়ীফ হাদীস দায়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে যেয়ে ডাকছে, আপনি সহীহ হাদীস গ্রন্থগুলি নিয়ে ক'জনের দ্বারে গিয়েছেন?" শুধু সমালোচনা কোনো কল্যান বয়ে আনে না” (হাদিসের নামে জালিয়াতি : খন্দোকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গির : ৫ পৃ:)। তবুও আমাদের উচিত জ্বাল আর যয়ীফ হাদিস থেকে দূরে থাকা।

কোনো মতামত গ্রহনের আগে যাচাই করুন: কোনো মতামত গ্রহণকারা আগে তা যাচাই বাছাই করুন। যেমন আল্লাহ পাক বলেন:

০১. “আর যদি আপনি পৃথিবীর অধিকাংশ লোকের কথা মেনে নেন, তবে তারা আপনাকে আল্লাহর পথ থেকে বিপথগামী করে দেবে। তারা শুধু অলীক কল্পনার অনুসরণ করে এবং সম্পূর্ণ অনুমান ভিত্তিক কথাবার্তা বলে থাকে। (৪. সুরা আন’য়াম: ১১৬)”

০২. মুমিনগণ! যদি কোন পাপাচারী ব্যক্তি তোমাদের কাছে কোন সংবাদ আনয়ন করে, তবে তোমরা পরীক্ষা করে দেখবে, যাতে অজ্ঞতাবশতঃ তোমরা কোন সম্প্রদায়ের ক্ষতিসাধনে প্রবৃত্ত না হও এবং পরে নিজেদের কৃতকর্মের জন্যে অনুতপ্ত না হও। (৪৯. সুরা হুজুরাত: ৬)

হাদিসে পাকের মধ্যে এসেছে:

০১. আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তির মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শুনে (তার সত্যাসত্য যাচাই না করে) তাই বলে বেড়ায় বা প্রচার করে [মুসলিম]”


০২. যে ইচ্ছাকৃত ভাবে আমার নামে মিথ্যা হাদীস বনর্না করল সে জাহান্নামে তার আবাস ন্থল নির্ধারণ করে নিল।(বুখারী)”

০৩. আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছেনঃ “বান্দা যখন ভালো-মন্দ বিচার না করেই কোন কথা বলে, তখন তার কারণে সে নিজেকে জাহান্নামের এত গভীরে নিয়ে যায় যা পূর্ব ও পশ্চিমের দুরত্বের সমান।” [বুখারী,মুসলিম]

সফরে যাওয়া ক্ষেত্রে পরিবার পরিজনের জন্য যথেস্ট পরিমানে ভরন-পোষন রেখে যান: পরিবারের ভরন-পোষন করা আপনার দায়ীত্ব, তাই সফরে যাওয়ার ক্ষেত্রে পরিবারের কাছে যথেস্ট পরিমান ভরন-পোষন রেখে যান। হাদিসের মধ্যে এসেছে, মুহাম্মদ ইবনে সালাম রহ…………..মামার রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সাওরী রহ. আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, কোন ব্যক্তি তার পরিবারের জন্য বছরের কিছু অংশের খাদ্য সঞ্চয় করে রাখা সম্পর্কে আপনি কোন হাদীস শুনেছেন কি? মামা বলেন, তখন আমার কোন হাদীস স্মরণ হল না। পরে একটি হাদীসের কথা আমার মনে পড়ল, যা ইবনে শিহাব যুহরী র. মালিক ইবনে আওসের সূত্রে উমর রা. থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনূ নাযীরে খেজুর বিক্রি করে ফেলতেন এবং পরিবারে জন্য এক বছরের খাদ্য সঞ্চয় করে রাখতেন।

অন্যএক হাদিসে এসেছে,

حديث مرفوع) حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ حَفْصٍ ، حَدَّثَنَا أَبِي ، حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ ، حَدَّثَنَا أَبُو صَالِحٍ ، قَالَ : حَدَّثَنِي أَبُو هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، قَالَ : قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : أَفْضَلُ الصَّدَقَةِ مَا تَرَكَ غِنًى ، وَالْيَدُ الْعُلْيَا خَيْرٌ مِنَ الْيَدِ السُّفْلَى ، وَابْدَأْ بِمَنْ تَعُولُ . تَقُولُ الْمَرْأَةُ : إِمَّا أَنْ تُطْعِمَنِي وَإِمَّا أَنْ تُطَلِّقَنِي ، وَيَقُولُ الْعَبْدُ : أَطْعِمْنِي وَاسْتَعْمِلْنِي ، وَيَقُولُ الِابْنُ : أَطْعِمْنِي إِلَى مَنْ تَدَعُنِي ، فَقَالُوا : يَا أَبَا هُرَيْرَةَ ، سَمِعْتَ هَذَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ : لَا ، هَذَا مِنْ كِيسِ أَبِي هُرَيْرَةَ


অনুবাদ: উমর ইবনে হাফস রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, উত্তম সাদকা হল যা দান করার পরেও মানুষ অমুখাপেক্ষী থাকে। উপরের স্ত্রী বলবে, হয় আমাকে খাবার দাও, নতুবা তালাক দাও। গোলাম বলবে, খাবার দাও এবং কাজ করাও। ছেলে বলবে, আমাকে খাবার দাও, আমাকে তুমি কার কাছে রেখে যাচ্ছ? লোকেরা জিজ্ঞাসা করল, হে আবু হুরায়রা আপনি কি এ হাদীস রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছেন? তিনি উত্তরে বললেন, এটি আবু হুরায়রা জামবিলের নয় (বরং হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে)। অতএব পরিবারের ভরন-পোষন রেখে যাওয়া আপনার জন্য কর্তব্য।

আখলাক সুন্দর করতে হবে: দায়ী ভাইদের আখলাক সুন্দর করতে হবে। কারণ আখলাকের দ্বারাও দ্বীন এসেছে, উত্তম আখলাক নবী (স:) এর আখলাক, আল্লাহ পাক বলেন,

০১. আর ক্ষমা করার অভ্যাস গড়ে তোল, সৎকাজের নির্দেশ দাও এবং মূর্খ জাহেলদের থেকে দূরে সরে থাক। (৭. সুরা আরাফ: ১৯৯)

০২. অতএব, তোমাদেরকে যা দেয়া হয়েছে তা পার্থিব জীবনের ভোগ মাত্র। আর আল্লাহর কাছে যা রয়েছে, তা উৎকৃষ্ট ও স্থায়ী তাদের জন্যে যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও তাদের পালনকর্তার উপর ভরসা করে।যারা বড় গোনাহ ও অশ্লীল কার্য থেকে বেঁচে থাকে এবং ক্রোধাম্বিত হয়েও ক্ষমা করে, (৪২. সুরা শূরা: ৩৬,৩৭)


০৩. আর মন্দের প্রতিফল তো অনুরূপ মন্দই। যে ক্ষমা করে ও আপোষ করে তার পুরস্কার আল্লাহর কাছে রয়েছে; নিশ্চয় তিনি অত্যাচারীদেরকে পছন্দ করেন নাই। (৪২.সুরা শূরা: ৪০)

০৪. তোমরা যদি কল্যাণ কর প্রকাশ্যভাবে কিংবা গোপনে অথবা যদি তোমরা আপরাধ ক্ষমা করে দাও, তবে জেনো, আল্লাহ নিজেও ক্ষমাকারী, মহাশক্তিশালী। [সুরা নিসা: ১৪৯]

নবী(স:) বলেছেন, ০১. হযরত আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাহু আলাইহি ওসাল্লাম ইরশাদ করেন : "যে ব্যক্তি আল্লাহ্ ও আখিরাতকে বিশ্বাস করে, তার উচিত উত্তম কথা বলা অথবা চুপ থাকা, যে ব্যক্তি আল্লাহ্ ও আখিরাতকে বিশ্বাস করে, তার উচিত আপন প্রতিবেশীর প্রতি সদয় হওয়া , যে ব্যক্তি আল্লাহ্ ও আখিরাতকে বিশ্বাস করে, তার উচিত অতিথিকে সম্মান করা।" বুখারী,- ৬০১৮

০২. হযরত আনাস ইবনে মালেক (রা:) বর্ণনা করেন যে, রসুলুল্লহ সল্লাল্লহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করিয়াছেন, যে ব্যক্তি নিজের কোন মুসলমান ভাই কে খুশি করার জন্য এইভাবে সাক্ষাত করে যেভাবে আল্লহ তায়া’লা পছন্দ করেন (যেমন হাসিমুখে), কিয়ামাতের দিন আল্লহ তায়া’লা তাহাকে খুশি করিবেন। (তাবারানী, মাজমায়ে যাওয়ায়েদ)

০৩. হযরত আ’য়েশাহ (রা:) হইতে বর্ণিত, রসুলুল্লহ সল্লাল্লহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করিয়াছেন, সবচাইতে পরিপূর্ণ ঈমানওয়ালাদের অন্তর্ভুক্ত ঐ ব্যক্তি যাহার চরিত্র সবচাইতে ভাল এবং যে আপন পরিবার-পরিজনের সহিত সবচাইতে বেশি নম্র আচরণকারী (তিরমিযী)

নসিহাতের ক্ষেত্রে সচেতনতা: আমরা অনেক সময় বলে থাকি যে বিনা হিসেবে জান্নাতে যাবে বা কোনো আজাব হবে না এই কথাগুলো বলা যাবে না, কেননা আল্লাহ পাক বলেন,

০১. প্রত্যেক প্রাণীকে আস্বাদন করতে হবে মৃত্যু। আর তোমরা কিয়ামতের দিন পরিপূর্ণ বদলা প্রাপ্ত হবে। তারপর যাকে দোযখ থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, তার কার্যসিদ্ধি ঘটবে। আর পার্থিব জীবন ধোঁকা ছাড়া অন্য কোন সম্পদ নয়।(৩.সূরা আল-ইমরান: ১৮৫)

০২. যে লোক সৎকাজের জন্য কোন সুপারিশ করবে, তা থেকে সেও একটি অংশ পাবে। আর যে লোক সুপারিশ করবে মন্দ কাজের জন্যে সে তার বোঝারও একটি অংশ পাবে। বস্তুতঃ আল্লাহ সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাশীল।(৪.সূরা নিসা:৮৫)

০৩. আর সেদিন যথার্থই ওজন হবে। অতঃপর যাদের পাল্লা ভারী হবে, তারাই সফলকাম হবে। এবং যাদের পাল্লা হাল্কা হবে, তারাই এমন হবে, যারা নিজেদের ক্ষতি করেছে। কেননা, তারা আমার আয়াত সমূহ অস্বীকার করতো। (৭.সুরা আরাফ: ৮,৯]

০৪. যদিও একে অপরকে দেখতে পাবে। সেদিন গোনাহগার ব্যক্তি পনস্বরূপ দিতে চাইবে তার সন্তান-সন্ততিকে। তার স্ত্রীকে, তার ভ্রাতাকে। তার গোষ্ঠীকে, যারা তাকে আশ্রয় দিত। এবং পৃথিবীর সবকিছুকে, অতঃপর নিজেকে রক্ষা করতে চাইবে। (৭০.আল-মারিজ-১১,১২,১৩,১৪)

০৫. এদেরই জন্য অংশ রয়েছে নিজেদের উপার্জিত সম্পদের। আর আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী। (২.সূরা আল বাকারা: ২০২)

০৬. আজ প্রত্যেকেই তার কৃতকর্মের প্রতিদান পাবে। আজ যুলুম নেই। নিশ্চয় আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী। (৪০,সূরা গাফীর: ১৭)

০৭. আমি কেয়ামতের দিন ন্যায়বিচারের মানদন্ড স্থাপন করব। সুতরাং কারও প্রতি জুলুম হবে না। যদি কোন আমল সরিষার দানা পরিমাণও হয়, আমি তা উপস্থিত করব এবং হিসাব গ্রহণের জন্যে আমিই যথেষ্ট। (২১,সূরা আল আনবীয়া:৪৭)

০৮. যা কিছু আকাশসমূহে রয়েছে এবং যা কিছু যমীনে আছে, সব আল্লাহরই। যদি তোমরা মনের কথা প্রকাশ কর কিংবা গোপন কর, আল্লাহ তোমাদের কাছ থেকে তার হিসাব নেবেন। অতঃপর যাকে ইচ্ছা তিনি ক্ষমা করবেন এবং যাকে ইচ্ছা তিনি শাস্তি দেবেন। আল্লাহ সর্ববিষয়ে শক্তিমান। (২.সূরা আল বাকারা: ২৮৪)

০৯. মানুষ কি মনে করে যে, তারা একথা বলেই অব্যাহতি পেয়ে যাবে যে, আমরা বিশ্বাস করি এবং তাদেরকে পরীক্ষা করা হবে না? (২৯.সুরা আনকাবুত: ২)

১০. তোমরা কি মনে করেছো, এমনিতেই তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করে যাবে? অথচ তোমাদের আগে যারা ঈমান এনেছিল তাদের ওপর যা কিছু নেমে এসেছিল এখনও তোমাদের ওপর সেসব নেমে আসেনি ৷ তাদের ওপর নেমে এসেছিল কষ্ট-ক্লেশ ও বিপদ-মুসিবত, তাদেরকে প্রকম্পিত করা হয়েছিল ৷ এমনকি সমকালীন রাসূল এবং তাঁর সাথে যারা ঈমান এনেছিল তারা চিৎকার করে বলে উঠেছিল, "আল্লাহর সাহায্য কোথায়?" জেনে রেখো, অবশ্যি আল্লাহর সাহায্য নিকটেই৷ (২. সূরা-আল বাকারা-২১৪)

অতএব বোঝা গেল হিসাব হবেই এবং তা পরিপূর্ণ ভাবেই হবে।

আমীরের ইকতেদা করুন: আমিরেকে মান্য করুন যেমন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ০১. আমি তোমাদেরকে পাঁচটি বিষয়ে নির্দেশ দিচ্ছিঃ (১) জামা‘আতবদ্ধ জীবন যাপন করা (২) আমীরের আদেশ শ্রবণ করা (৩) তাঁকে মান্য করা... (আহমাদ, তিরমিযী, সনদ ছহীহ, মিশকাত হা/৩৬৯৪)।

০২. রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আরো বলেন, কেউ জামাআত বা সংগঠন হতে বের হয়ে গেল, এমতাবস্থায় তার মৃত্যু হ’লে, সে জাহেলিয়াতের মৃত্যুবরণ করল (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৩৬৬৮)।

০৩. তিনি আরও বলেন, তোমাদের জন্য জামাআতবদ্ধ জীবন যাপন করা অপরিহার্য এবং বিচ্ছিন্ন থাকা নিষিদ্ধ। কেননা শয়তান একজনের সঙ্গে থাকে এবং দুইজন থেকে সে দূরে থাকে। অতএব যে ব্যক্তি জান্নাতের মধ্যস্থলে থাকতে চয়, সে যেন জামা‘আতকে অপরিহার্য করে নেয় (তিরমিযী হা/২১৬৫)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, জামাআতের উপর আল্লাহর হাত থাকে (তিরমিযী হা/২১৬৬)।

তবে সেই পর্যন্ত আমিরের আদেশ মান্য করতে হবে যে পর্যন্ত সে সঠিক পথে আছে, ইমাম বুখারী যুদ্ধ অধ্যায়ে আনসারদের অভিযান নামে একটি শিরোনাম বেধেঁছেন। সেখানে দেখা যাচ্ছে, রসুল (সঃ) আবদুল্লাহ বিন হুযায়ফা বিন কায়েস বিন আদী আল-সাহমীকে সেনাপতি করে এক সৈন্য বাহিনী প্রেরন করেন এবং তিনি তাঁদেরকে নেতার আনুগত্য করার নির্দেশ প্রদান করেন। বিশেষ কারনে তিনি ক্ষুদ্ধ হন। তিনি বলেন, নাবী (সঃ) কি তোমাদেরকে আমার আনুগত্য করার নির্দেশ দান করেননি? তাঁরা সমস্বরে বলেন,হ্যাঁ

তিনি আদেশ করেনঃ আমার জন্য কিছু জ্বালানীর কাঠ স্তুপ কর। তাঁরা তাঁর সামনে জ্বালানী কাঠ স্তুপ করেন। তখন তিনি এতে অগ্নি সংযোগ করেন। এক্ষনে তিনি (আমীর) সকলকে অগ্নিকুন্ডে প্রবেশের আদেশ দিয়ে বলেনঃ 'তোমরা এতে প্রবেশ কর।' ফলে সৈনিকগণ চিন্তাযুক্ত হয়ে পরস্পরকে বাধা দিতে আরম্ভ করলেন এবং বলতে লাগলেনঃ "আমরা তো আগুন থেকে বাচাঁর জন্যই রসুল (সঃ) এর কাছে ছুটে গেছি।" তাঁদের ইতস্ততঃ করতে করতেই আগুন নিভে যায় এবং আমীরের ক্রোধও প্রশমিত হয়। এ সংবাদ রসুল (সঃ) এর নিকট পর্যন্ত পৌছায়। তিনি বলেনঃ "যদি তোমরা উক্ত জ্বলন্ত হুতাশনে প্রবেশ করতে, তাহলে প্রলয় দিবস পর্যন্ত সেখান থেকে বেরুতে পরতে না।" 'আসলে নেতার নির্দেশ মানতে হয় সৎ ও ন্যায় সঙ্গত কাজে'। বুখারী ২য় খন্ড, পৃঃ ৬২২ ।

যদিও আপনারা ফতোয়া দেন না তারপরও ফতোয়া দেয়া থেকে বিরত থাকুন: যদিও আপনারা ফতোয়া দিয়ে থাকেন না কারণ আপনি মুফতিহ নন, তার পরও যদি কেউ কোন প্রশ্ন করে কোনো ফতোয়া সম্পর্কে তবে তাদের বলুন আলেমদের কাছ থেকে জেনে নিন। এটা আপনাদের দায়িত্ব নয়।

আমি কোন দলের অনুষারী হবো: আপনি কোন দলের অনুষারি হবেন সেটা একান্তই আপনার ব্যাপার, তবে কোনো দলে যোগদেয়ার আগে এই আয়াতগুলো একটু দেখবেন। আল্লাহ পাক বলেন,

০১. অনুসরণ কর তাদের, যারা তোমাদের কাছে কোন বিনিময় কামনা করে না, অথচ তারা সুপথ প্রাপ্ত।(৩৬, সূরা ইয়াসিন: ২১)

০২. হে আমার জাতি! আমি এজন্য তোমাদের কাছে কোন মজুরী চাই না; আমার মজুরী তাঁরই কাছে যিনি আমাকে পয়দা করেছেন; তবু তোমরা কেন বোঝ না? (১১.সুরা হুদ: ৫১)

০৩. এরা এমন ছিল, যাদেরকে আল্লাহ পথ প্রদর্শন করেছিলেন। অতএব, আপনিও তাদের পথ অনুসরণ করুন। আপনি বলে দিনঃ আমি তোমাদের কাছে এর জন্যে কোন পারিশ্রমিক চাই না। এটি সারা বিশ্বের জন্যে একটি উপদেশমাত্র। (৬.সুরা আন’য়াম: ৯০)

০৪. আল্লাহ ক্রয় করে নিয়েছেন মুসলমানদের থেকে তাদের জান ও মাল এই মূল্যে যে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত। তারা যুদ্ধ করে আল্লাহর রাহেঃ অতঃপর মারে ও মরে। তওরাত, ইঞ্জিল ও কোরআনে তিনি এ সত্য প্রতিশ্রুতিতে অবিচল। আর আল্লাহর চেয়ে প্রতিশ্রুতি রক্ষায় কে অধিক? সুতরাং তোমরা আনন্দিত হও সে লেন-দেনের উপর, যা তোমরা করছ তাঁর সাথে। আর এ হল মহান সাফল্য। তারা তওবাকারী, এবাদতকারী, শোকরগোযার, (দুনিয়ার সাথে) সম্পর্কচ্ছেদকারী, রুকু ও সিজদা আদায়কারী, সৎকাজের আদেশ দানকারী ও মন্দ কাজ থেকে নিবৃতকারী এবং আল্লাহর দেওয়া সীমাসমূহের হেফাযতকারী। বস্তুতঃ সুসংবাদ দাও ঈমানদারদেরকে। [সুরা তাওবা: ১১১. ১১২]

হাদিসের মধ্যে এসেছে, হযরত আবু হুরাইরা রাঃ থেকে বর্ণিত। নবী করীম (সাঃ) বলেছেন, সাত ব্যক্তিকে আল্লাহ (কিয়ামত দিবসে) তার (আরশের) ছায়াতলে আশ্রয় দিবেন, যেদিন তাঁর ছায়া ছাড়া অন্য কোন ছায়া থাকবে না। (১) ন্যায় পরায়ন শাসক, (২) ঐ যুবক যে আল্লাহর ইবাদতের মধ্যে বড় হয়েছে, (৩) ঐ ব্যক্তি যার অন্তর মসজিদের সাথে লেগে আছে (জামায়াতের প্রতি যে উম্মুখ থাকে), (৪) ঐ দু’ ব্যক্তি যারা একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে একে অন্যকে ভালবেসেছে এবং তাতে অবিচল রয়েছে, কিংবা পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়েছে ( তাও আল্লাহর উদ্দেশ্যে), (৫) ঐ ব্যক্তি যাকে কোন অভিজাত শ্রেনীর সুন্দরী মহিলা (ব্যাভিচারের দিকে) আহবান করে আর (তদুত্তরে) সে বলে, আমি আল্লাহকে ভয় করি, (৬) ঐ ব্যক্তি যে কিছু দান করল এবং তা এতটা গোপনভাবে করল যে, তার বাম হাত জানতে পারল না তার ডান হাত কি দান করেছে, (৭) ঐ ব্যক্তি যে একাকী বসে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং তার চোখ দু’টো (আল্লাহর ভয়ে) অশ্রুপাত করে। (বুখারী, ২য় খন্ড, যাকাত অধ্যায়, হাদীস নং- ৫০৪) ।

আলহামদুলিল্লাহ উপরের সবকয়টি গুন আপনি এই জামায়তের মধ্যে পাবেন। আপনি চিন্তা করে দেখুন কি করবেন।

তাবলীগের সুফল :

ইসলাম ধর্মের সার কথা একটাই তা হলো- এ দুনিয়ায় মানুষ হচ্ছে আল্লাহর নায়েব বা প্রতিনিধি। আর গোটা দুনিয়াটা একটা ওয়াকফ এষ্টেট এবং মানুষ তার মোতাওয়াল্লী। মানুষের দায়িত্বই হল এখানকার ব্যবস্থাপনা ও হেদায়াতের কাজ। কিন্তু আজ সবাই আল্লাহর রাজত্বের লুণ্ঠনকারী হতে চায়। কেউ আল্লাহর নায়েব বা মোতাওয়াল্লী হতে চায় না। কারণ এই দুনিয়ায় এমন মানুষের সংখ্যাই অধিক যাদের স্মরণ নেই যে, তাদের মূল অবস্থান কোথায় এবং তাদের জীবন যাপনের উদ্দেশ্য কি? এক্ষেত্রে আলাদিনের চেরাগের মতো দাওয়াতে তাবলীগ এ কথাটিই চোখে আঙ্গুল দিয়ে শিখিয়ে দিচ্ছে। মানুষের মধ্যে ভাল আখলাক, ধৈর্য্য, সমবেদনা, আত্মশুদ্ধি, মানুষের প্রকৃত মূল্যায়ন সহ সকল উত্তম গুণাবলীর আবির্ভাব হয়েছে এ জামাতের মাধ্যমে। সকল প্রকার মন্দ কাজ হতে মানুষ দূরে থাকছে। নিম্নে উদাহরণ স্বরূপ দু’একটি দেশের কথা উল্লেখ করা হল-

১. আফ্রিকা মহাদেশঃ আফ্রিকাতে দু’ধরণের লোক বাস করে, কৃষ্ণাঙ্গ ও শ্বেতাঙ্গ। এদের মাঝে এত বেশী শত্রুতা যে, দেখা মাত্রই একে অন্যের ওপর আক্রমণ করে বসে। সরকার এ পরিস্থিতির উত্তরণে হাজার কোটি টাকা খরছ করেও ফলাফল অশ্বডিম্ব। কিন্তু ১৯৫৮ ইংরেজীতে আফ্রিকায় দাওয়াতে তাবলীগের এক ইজতেমার মাধ্যমে উভয় গোত্র একই দস্তরখানে খানা আরম্ভ করল। ফলে তাবলীগের মেহনতের বদৌলতে দীর্ঘদিনের সেই শত্র“তা দূর হয়ে গেল।

২. ইউরোপঃ ইউরোপে ১০ বছরে ২০ হাজার ইংরেজ মুসলমান হয়েছে। লন্ডন থেকে প্রকাশিত ডেইলি মেইল এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

৩. ইংলেন্ডঃ ইংলেন্ডে তাবলীগ জামাতের মেহনতে প্রতি বছর ১০ হাজার বৃটিশ মুসলমান হচ্ছে। ১৯৯১ সালে চার্চে গমনকারী খ্রিষ্টানদের সংখ্যা ছিল ৮,৫৪,০০০ এবং মসজিদে গমনকারী মুসলমানদের সংখ্যা ছিল ৫,৩৬,০০০ হাজার। ১৯৯২ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত মসজিদে গমনকারী মুসলমানদের সংখ্যা ৪০,০০০ আর চার্চে গমনকারী খ্রিষ্টানদের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে ২০,০০০।

৪. ফ্রান্সঃ ফ্রান্সে খুব দ্রুতগতিতে ইসলামের বিস্তার লাভ করছে। ১৫ বছরে প্রায় দেড় হাজার মসজিদ নির্মিত হয়েছে।

পরিশেষে, একদল লোক আছে যারা শয়তানের সাথে হাত মিলিয়ে এই জামায়াতের সমালোচনা করে তাদের বলছি, ভাই নবী ওয়ালা কাজের সমালোচনা করে দূভোর্গ ডেকে আনবেন না। আল্লাহ পাক বলেন, যারা আল্লাহর পথে বাধা দেয়, আর তাতে বক্রতা খুজে বেড়ায়, এরাই আখরাতকে অস্বীকার করে। (১১.সুরা হুদ: ১৯)। আর যারা তাবলীগ করে তাদের মধ্যে কিছু সমস্যা থাকতেই পারে, ডা: নায়েক বলেন ড্রাইভার দেখে গাড়ীর পর্ফামেন্স বিচার করা যায় না, দেখতে হলে ভাল ড্রাইভারকে ড্রাইভারের সিটে বসান। তেমনি একজন সাধারণ মানের তাবলীগওয়ালা দেখে তাবলীগের কাজকে বিচার করা যায় না। একজন ভাল দায়ীকে দিয়ে বিচার করুন।

এর পরও কিছু লোক আছে যাদের ব্রেন ওয়াশ করা এবং পরিপুর্ন কলসের মত, আপনি যতই বুঝান তারা বুঝতে চাইবেনা তাদের জন্য আমাদের কাজ হবে দোয়া করা আর বুঝানো কারণ আল্লাহ বলেন, এবং বোঝাতে থাকুন; কেননা, বোঝানো মুমিনদের উপকারে আসবে। (৫১.সুরা যারিয়া’ত: ৫৫)আবার কিছু লোক আছে যারা এত কথা বলার পরও এর বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করবে, তাদের জন্য আল্লাহ পাক পবিত্র কুরআনের বলেন, “একশ্রেণীর লোক আছে যারা মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে গোমরাহ করার উদ্দেশে অবান্তর কথাবার্তা সংগ্রহ করে অন্ধভাবে এবং উহাকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে। এদের জন্য রয়েছে অবমাননাকর শাস্তি। (৩১. সুরা লুকমান: ৬)”

আল্লাহ পাক বলেন, ০১. যেগুলো সম্পর্কে তোমাদের নিষেধ করা হয়েছে যদি তোমরা সেসব বড় গোনাহ গুলো থেকে বেঁচে থাকতে পার। তবে আমি তোমাদের ক্রটি-বিচ্যুতিগুলো ক্ষমা করে দেব এবং সম্মান জনক স্থানে তোমাদের প্রবেশ করাব। (৪.সুরা নিসা: ৩১)

০২. এতে কোন সন্দেহ নেই যে, যারা ঈমান এনেছে, দেশ ত্যাগ করেছে, স্বীয় জান ও মাল দ্বারা আল্লাহর রাহে জেহাদ করেছে এবং যারা তাদেরকে আশ্রয় ও সাহায্য সহায়তা দিয়েছে, তারা একে অপরের সহায়ক। আর যারা ঈমান এনেছে কিন্তু দেশ ত্যাগ করেনি তাদের বন্ধুত্বে তোমাদের প্রয়োজন নেই যতক্ষণ না তারা দেশত্যাগ করে। অবশ্য যদি তারা ধর্মীয় ব্যাপারে তোমাদের সহায়তা কামনা করে, তবে তাদের সাহায্য করা তোমাদের কর্তব্য। কিন্তু তোমাদের সাথে যাদের সহযোগী চুক্তি বিদ্যমান রয়েছে, তাদের মোকাবেলায় নয়। বস্তুতঃ তোমরা যা কিছু কর, আল্লাহ সেসবই দেখেন। (৮. সুরা আনফাল: ৭২)

সুতরাং এ প্রশ্নটি অবান্তর যে, তারা অমুসলিমদের দাওয়াত দেয় না, বাতিলের প্রতিবাদ করে না, জিহাদ করেনা, রাজনীতি করে না। হ্যাঁ এরা তাদের ব্যানারে এসব করে না ঠিক। তবে এ কাজগুলোতে তাদেরই ভূমিকা বেশী। যার প্রমাণ দেয়ার প্রয়োজন নেই একটু গভীরভাবে চিন্তা করলেই উপলব্ধি করা যায়। আল্লহ পাক বলেন, “অতএব, আমি অবশ্যই তাদেরকে জিজ্ঞেস করব যাদের কাছে রসূল প্রেরিত হয়েছিল এবং আমি অবশ্যই তাদেরকে জিজ্ঞেস করব রসূলগণকে। (৭.সুরা আরাফ: ৬)” আল্লাহ পাক আমার, আপনার, উম্মতে মুহাম্মাদির ভুল ত্রুটি ক্ষমা করে দিন।


রেফারেন্স:
http://goo.gl/pswNH
http://goo.gl/yEzeF
http://goo.gl/l3Prz
http://goo.gl/C09O